এক নজরে মুন্সীগঞ্জ

এক নজরে মুন্সীগঞ্জ জেলা
ইতিহাস,ঐতিহ্য আর বহু কীর্তিমান মনীষীর স্মৃতিধন্য মুন্সিগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রাচীন নিদর্শন সমূহের সাথে জড়িয়ে রয়েছে হাজারো গৌরব গাঁথা, সুখ-দু:খের নানা উপাখ্যান।সংগীত, নাটক, নৃত্য, সাহিত্য, আবৃত্তি-সংস্কৃতির সকল শাখায় সমৃদ্ধ এই মুন্সিগঞ্জ।এ জেলা সুপ্রাচীন চন্দ্ররাজাদের তাম্রশাসনের অঞ্জলি থেকে শুরু করে পাল, সেন, মোঘল, বার ভূঁইয়াদের কীর্তিতে সমুজ্জ্বল হয়ে একটি স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের রাজধানী বিক্রমপুরের কীর্তিময় অংশ। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত রয়েছে মুন্সিগঞ্জ বাসীর অবিস্মরনীয় অবদান। বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে এ জেলা পালন করছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

নামকরণ
মুন্সিগঞ্জের প্রাচীন নাম ছিল ইদ্রাকপুর। কথিত আছে, মোঘল শাসন আমলে এই ইদ্রাকপুর গ্রামে মুন্সী হায়দার হোসেন নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মোঘল শাসকদের দ্বারা ফৌজদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। অত্যন্ত সজ্জন ও জনহিতৈষী মুন্সী হায়দার হোসেনের নামে ইদ্রাকপুরের নাম হয় মুন্সীগঞ্জ। কারো কারো মতে জমিদার এনায়েত আলী মুন্সীর নামানুসারে মুন্সিগঞ্জ নামকরন করা হয়েছে।

ভূমির আকৃতি
মুন্সিগঞ্জ জেলা নদীবাহিত সমতল এলাকা। জেলার সকল অঞ্চলের ভিতর দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়েছে।মুন্সিগঞ্জের বেশীর ভাগ এলাকা নিম্নভূমি বলে বর্ষার পানিতে অনেক সময় প্লাবিত হয়ে পড়ে। এ জেলার মধ্য দিয়ে পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতি নদী প্রবাহিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে নদী তীরবর্তী এলাকাসমূহ নদী ভাংগনের কবলে পড়ে।

জলবায়ু
মুন্সিগঞ্জের জলবায়ু সমভাবাপন্ন। তবে আর্দ্রতা, বৃষ্ট্রিপাত ও শীতের প্রকোপ বাংলাদেশের অন্যান্য নদীবাহিত এলাকার অনুরূপ। অপেক্ষাকৃত বৃক্ষাদির সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ এলাকার আবহাওয়া বসবাসের জন্য আরামদায়ক।

জেলার গুরুত্বপুর্ণ তথ্যাবলী

জেলা প্রতিষ্ঠার তারিখ : ১লা মার্চ ১৯৮৪ সাল
জেলার মোট আয়তন: ৯৫৪.৯৬ বর্গ কিঃ মিঃ
জেলার জনসংখ্যা: ১৫,০২,৪৪৯জন
পুরুষ : ৭,৪৯,৯১৮ জন
মহিলা : ৭,৫২,৫৩১ জন
শিক্ষার হার : ৫৬.১%
মোট উপজেলা : ৬টি
পৌরসভার সংখ্যা : ২টি
ইউনিয়নের সংখ্যা : ৬৭টি
ওয়ার্ড : ৬০৩টি
প্রাথমিক বিদ্যালয় : ৫৩৮টি (সরকারী ৫০৪টি , বেসরকারী রেজিঃকৃত ৩৪টি)
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা : ৯৯টি (সরকারী ৩টি, বেসরকারী ৮৫টি, বেসরকারী জুনিয়র ১১টি)
মাদ্রাসা : ২৯টি (দাখিল ২২টি, আলিম ৫টি, ফাজিল ১টি, কামিল ১টি)
কলেজ : ১৩টি (সরকারী ৪টি, বেসরকারী ৯টি মোট)

সোর্সঃ ডিসি ওয়েবসাইট