কোন্দলে নড়বড়ে বিএনপির দুর্গে সুদিন আওয়ামী লীগের

মো. মাসুদ খান: একসময়ের বিএনপির দুর্গ বলে খ্যাত মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আওয়ামী লীগের সুদিন। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিতে চলছে কোন্দল। আগামী নির্বাচনে আসন পুনরুদ্ধার করে নড়বড়ে এ দুর্গকে আবার মজবুত করতে পারবে কি না এ নিয়ে বিস্তারিত… »

জাতীয় নির্বাচনের তৎপরতা: হেভিওয়েট আর তরুণ প্রার্থীতে একাকার মুন্সীগঞ্জ

লাবলু মোল্লা: ঢাকার অদূরে মুন্সীগঞ্জেও চলছে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তৎপরতা। দেশ স্বাধীনের পর থেকে চারটি সংসদীয় আসন থাকলেও এখন তা তিনটিতে পরিণত হয়েছে। বিস্তারিত… »

অভিমান জিইয়ে রাখলেন বি. চৌধুরী

প্রায় নয় বছর পর ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছেন। সব অভিমানের অবসান হচ্ছে। এজন্য ইফতার মাহফিলে তাকে প্রধান অতিথি করে দাওয়াত কার্ডও বিতরণ করা হয়। বিস্তারিত… »

এক দশক পর নিজ ভূমে পরবাস ভাংছেন বি’চৌধুরী

মোঃ আরিফ হোসেন: প্রায় এক দশক পর নিজ ভূমে পরবাস ভাংছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট বি’চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার বিকল্প যুবধারার ইফতার মাহফিলে অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালের পর শ্রীনগরে কোন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বিস্তারিত… »

বিলুপ্তির পথে বিকল্প ধারা!

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি চৌধুরী) নেতৃত্বাধীন ‘বিকল্প ধারা বাংলাদেশ’ বিলুপ্তির পথে। কার্যত রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের মধ্যে নেই দলটি। তাই অনেকেই এখন দলটিকে ‘বিকল ধারা’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন। বিস্তারিত… »

শ্রীনগর বিএনপির নেতৃত্বে আসছেন কারা?

আরিফ হোসেন: শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনকে সামনে রেখে একাধিক ধারায় বিভক্ত নেতা কর্মীদের মধ্যে কারা আসছেন নেতৃত্বে-এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র। এনিয়ে নেতা কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে দৌড় ঝাপ। বিস্তারিত… »

রাজনীতি: বি. চৌধুরীকে বিএনপিতেই চান বিকল্পের নেতারা

দলীয় রাজনীতির বৃত্তে আটকে থাকতে চান না বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে দলের নেতাকর্মীরা বি. চৌধুরীকে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলনে দেখতে চান। বিস্তারিত… »

‘বিকল্পধারা’ – ১০ বছরেও বিকল্প হতে পারেনি

প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও রাজনীতিতে সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে দাঁড়াতে পারেনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশ। বিএনপিপন্থী রাজনীতি, ছেলে মাহীর একক সিদ্ধান্ত, মহাসচিব এম এ মান্নানের স্বেচ্ছাচারিতা, স্থবির সাংগঠনিক কার্যক্রম, নিজ এলাকায় নিষ্ক্রিয়তা এবং একাধিকবার রাজনৈতিক জোট ভাঙ্গাগড়াসহ বহুবিদ কারণে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে দলটিতে। পাশাপাশি রাজনীতি থেকে বি চৌধুরী অবসর নেওয়ার খবর দলের অভ্যন্তরে চাউর হওয়ায় বিকল্পধারার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান দলটির নেতাকর্মীরা। বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে দলটির এসব বিষয় জানা গেছে।

জানা গেছে, ২০০৪ সালের মে মাসে বিএনপিত্যাগী সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরীর হাত ধরে জন্ম বিকল্পধারার। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ২০০২ সালে বিএনপিত্যাগী আরও দুই সাংসদ এম এ মান্নান ও মাহী বি চৌধুরী। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই তারা দুজন যথাক্রমে মহাসচিব ও যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরপর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দলকে সুসংগঠিত করার একাধিক চেষ্টা করেছেন ডা. বদরুদ্দোজা। কিন্তু দলের দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো, বিএনপিঘেঁষা রাজনীতির কারণে বিকল্পধারাকে পৃথক কোনও চরিত্র দিতে ব্যর্থ হন তিনি। নিষ্ক্রিয় থাকে তার নেতৃত্বাধীন জোটও।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রমতে, বি চৌধুরী নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছেন। বিএনপির বাইরে এসে পৃথক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা তিনি করলেও শেষপর্যন্ত আশানুরূপ ফলাফল বঞ্চিত থাকেন প্রবীণ এই রাজনীতিক।

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার সময় তিনি নিজেই রাজনীতিতে নতুন একটি সম্ভাবনার সূত্রপাত ঘটাতে চেয়েছিলেন। ফলে, রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে যাননি নিজের নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে। যদিও ওই সময় বিএনপিতে বিপুল পরিমাণ বাধার মুখে তিনি শেষপর্যন্ত বিএনপিত্যাগ করতে বাধ্য হন। নতুন দল বিকল্পধারা তৈরি করেন।

নতুন দল করে রাজনীতিতে বিকল্প একটি শক্তির উত্থান ঘটাতে তৎপর ছিলেন মি. চৌধুরী। যদিও দ্বিদলীয় বৃত্তের বাইরে নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও বিরত রাখতে পারেননি তিনি। ঘুরেফিরে তার দলের অনেক নেতাকর্মী বিএনপির রাজনীতিকেই কাছে টানেন। দলীয় কর্মসূচিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন না।

রাজনীতি থেকে অবসরের বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বেশিরভাগই অনুমেয় কথা। তবে ভবিষ্যতে আমার কর্মকাণ্ড নির্ভর করবে আমার স্বাস্থ্যের ওপর। আমার বয়স ৮৪ বছর। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ বিকল্পধারায় প্রবাহমান। দলটির রূপরেখায়ও স্পষ্ট করে বিএনপির অনুসরণ ছিল। ২০১৩ সালে ২৩ অক্টোবর নির্বাচনপূর্ব সময়ে নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখা দিয়েছিলেন বি চৌধুরী। কিন্তু অভিযোগ ছিল, ওই রূপরেখাটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেওয়া নির্দলীয় সরকার প্রস্তাবের আদলে দেওয়া রূপরেখা । এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সেক্রেটারি জেনারেল হওয়ায় বিএনপির প্রতি সহমর্মিতা সবসময় ছিল। এছাড়া দলের অভ্যন্তরে দুটি ধারা দলের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে বিদ্যমান রয়েছে। একটি ধারা মহাসচিব এম এ মান্নান (বিএনপিবিরোধী)। অন্যটি প্রেসিডিয়ামের সদস্য নুরুল আলম বেপারী (বিএনপিঘেঁষা)। এই দুজনের কর্মকাণ্ডের কারণে গত বছরের শুরুর দিকে এবং ২০১৩ সালের শেষের দিকে দলের ভাঙনের আশঙ্কা ছিল। বিএনপিতে যাওয়া না যাওয়া, ২০ দলীয় জোটে সম্পৃক্ত হওয়া না হওয়া এসব প্রশ্নে মূলত দ্বিধাবিভক্তি দৃশ্যত ছিল।

সূত্রের দাবি, মেজর মান্নান সবসময় নিজের ব্যবসাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এ কারণেই দলীয় কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হয়নি। এসব কারণেই বিকল্পধারা দল হিসেবে রাজনীতিতে সুপ্রতিষ্ঠা পায়নি বলে সূত্রের দাবি।

জানা যায়, বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী। গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর মাহী বি চৌধুরীর ‘আমি সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও পরাজয় মেনে নিয়েছি। কিন্তু ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি।’ এ বক্তব্যকে কেন্দ্র দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ দেখা দেয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত না থেকে তিনি সামাজিক যোগাযোগ সাইটেই তার আগ্রহ বেশি বলেও অভিযোগ অনেকের।

এ ব্যাপারে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব আবদুর রউফ মান্নান বলেন, ‘মাহী বি চৌধুরী আমাদের দলের যুগ্ম মহাসচিব। উনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পূর্বে আমাদের মতামত নেননি। আমরা উনাকে এসব নিয়ে বলেছিলাম। কিন্তু উনি বলেছেন, আমি আমার লোক নিয়েই নির্বাচন করব।’

পরবর্তীতে এসব মতামত প্রসঙ্গে মাহী বি. চৌধুরী বলেছিলেন, ‘আমি তো দলের প্রার্থী ছিলাম না, একটি অনলাইন সংগঠনের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেছি। আমি বিকল্পধারার সমর্থন নেইনি।’
যদিও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, ‘মাহী বি. চৌধুরী তো আমাদের মতামত নিয়ে প্রার্থী হননি। দলের কেউ তার সঙ্গে প্রচারণাতেও নামেনি। তার বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।

এদিকে দলটির আরও একটি সূত্র জানায়, বি চৌধুরীর তৈরি রাজনৈতিক মাঠে ভাল করার সুযোগ থাকলেও মাহী দূরে থেকেছেন। সংগঠন গোছানো, ছাত্রদের মধ্যে বিকল্পধারার কাজ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো কাজগুলো তার মতো সেলিব্রেটির কাছে সহজ হতো বলেও মত দিয়েছেন দলটির মহানগরের নিষ্ক্রিয় এক নেতা।

জানা গেছে, বি চৌধুরীর নিজ জেলা মুন্সীগঞ্জ। বিকল্পধারা প্রতিষ্ঠার সময় মুন্সীগঞ্জে বিকল্পধারার আহ্বায়ক ছিলেন গাজী শহিদুল হক ও সদস্য সচিব ছিলেন লক্ষ্মণ মণ্ডল। এ দুজনেই এখন দলে নেই। আমাদের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি তানজিল হাসান জানান, বি চৌধুরীর নিজ জেলায় বিকল্পধারার কার্যক্রম জিরো পার্সেন্টও নেই।

বিএনপি ত্যাগ করে বিকল্পধারায় যোগ দিলেও মুন্সীগঞ্জের রাজনীতি নিয়ে ভাবেনি চৌধুরী পরিবার। এছাড়া গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে হোটেল রেডিসন, জাতীয় প্রেসক্লাবে একাধিক জোটের ঘোষণা দিলেও শেষপর্যন্ত দুএকটি সংবাদ সম্মেলন ছাড়া জোটগত কোনও কর্মসূচি দিতে পারেননি বি চৌধুরী।বিগত ২০১০ সালের পর দলের কাউন্সিল নিয়েও কোনও তৎপরতা নেই দলটির।

এ প্রসঙ্গে বিকল্প ধারার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের জন্ম ২০০৪ সালে। এর মধ্যে দেশে বিকল্প রাজনীতির যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং বিকল্পধারার ভবিষ্যৎ কখনও খারাপ নয়। আমি আশা করি, অচিরেই দেশে পরিবর্তনের রাজনীতির সূচনা হবে এবং সেখানে বিকল্পধারার গুরুতপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। বিকল্পধারার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা হবে। নিকট ভবিষ্যতে বিকল্পধারা একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে আমি গভীরভাবে আশাবাদী ।

বাংলা ট্রিবিউন

বি. চৌধুরী রাজনীতি ছাড়তে পারেন…

রাজনীতি থেকে ‘অবসরে যেতে পারেন’ বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বিস্তারিত… »