বিরোধ সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভুয়া তালিকা প্রকাশ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮
বীরমুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহাম্মেদঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহনের লক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ব্যাক্তিগন ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষন, নিজ এলাকায় জনপ্রিয়তা, গ্রহনযোগ্যতা বাড়ানো ও দলীয় প্রচার বৃদ্ধির লক্ষে নানান কায়দায় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

লক্ষ্য করা গেছে রমজান মাসে ইফতার আয়োজন ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার লোকজনের মন জয় করতে কাজ করেছেন। তাছাড়া স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মি-সমর্থকদের মন জয় করে সমর্থন লাভে নানা কায়দায় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই ক্ষেত্রে ক্ষমতাশীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিটি আসনে একাধীক ব্যাক্তি আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা পেতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষনে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়াসমূহ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নামের যে চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করছে, অনেকে আবার আগ বাড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গনভবন থেকে বিসস্থ সুত্রেপ্রাপ্ত তালিকা বলে উল্লেখ করেছেন।

যা অথৈব-মিথ্যা-বানোয়াট-জালিয়াতি ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত, ভিক্তিহীন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে এই ধরনের প্রক্রিয়া বহির্ভুত তালিকা প্রকাশের কোন নজির নাই। ইতিমধ্যে এই ধরনের ভুয়া তালিকা নিয়ে এলাকায় নির্বাচনী মাঠে প্রচার কাজে লিপ্ত একজন আরেকজনকে কোন ঠাসা করার ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে যাচ্ছে, এমন কি দলীয় তৃনমুল পয্যায় নেতৃবৃন্দের মাঝে এই ভুয়া তালিকার প্রভাব ফেলছে, বিরোধ-দন্ধ-সংঘাত-ক্রন্দল সৃষ্টি হচ্ছে। একজনের সাথে কাজ করা কর্মি আরেক জনের কর্মিকে টিটকারী দিচ্ছে, অপমান করছে,এতে করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিরোপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে।

ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এই ভুয়া তালিকার বিষয় সতর্ক করেছেন, সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব ভুয়া তালিকা প্রকাশকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।

তারপরও এই ভুয়া তালিকা প্রকাশ বন্ধ হয়নি, কোন কোন মহল যেমন অর্থের বিনিময়ে ভুয়া তালিকা প্রকাশ করছে তেমনী কেহ কেহ নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের প্রচারকে বাধাঁগ্রস্থ করতে তালিকা প্রকাশের নামে এই হীন কাজটি করছে। আবার কেহ কেহ নিউজ পেপার বিক্রি বাড়ানো ও অন লাইনে নিজ ওয়েব সাইটের প্রচার বাড়ানোর জন্য নিজেদের আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে এই অনৈতিক কাজটি করে যাচ্ছে।

আমার জানা মতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন উপকমিটির মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠের তথ্য সংগ্রহ করছেন আবার গনভবন থেকেও ডিবি, এন.এস.আইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরদের হালহকিকত,জনপ্রিয়তা বিভিন্ন বিষয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কেহ যদি সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে দলীয় প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষন করেন, তাকে বলা হয় নিজ এলাকায় গিয়ে সংগঠনের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন, আমদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন মনোনয়ন বোর্ড এরাকার ভোটার ও তৃনমূল নেতৃবৃন্দের সর্মথন, প্রার্থীর গ্রহনযোগ্যতা উপর ভিক্তি করে মনোনয়ন দিবেন।

আসলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন। আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকার মানুষের মতামতের উপর ভিক্তি করে ও তৃনমূল নেতৃবৃন্দের চাহিদামতে সচ্ছতার সাথে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে থাকে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে একাধীক তালিকা তৈরী করা হয়েছে, এই তালিকার প্রার্থীর নাম নির্বাচনের পরিবেশ বিবেচনায় অহরহ পরিবর্তন হচ্ছে, এই পরিবর্তনের ধারা চলমান থাকবে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার আগ পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জাতীয নির্বাচনের তপসিল ঘোষনার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিক্রি করা হয়, প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ব্যাক্তিবর্গ আবেদন পত্র খরিদ করেন, এবং আবেদন পত্র পূরন করে সংশ্লিষ্ঠ দফতরে জমা দেন। মনোনয়ন বোর্ড থেকে আবেদনকারীদের ইন্টারভিউ নেওয়া হয় এবং মনোনয়ন বোর্ড নির্বাচনী মাঠের শান্তিশৃ্খংলা বজায় রাখা ও দলীয় ক্রন্দল,সংঘাতে না জড়ানোর জন্য এবং যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তাকে বিজয়ী করতে কাজ করার বিষয কঠোরভাবে সর্তক করে তাদের দিকনিদের্শনা প্রদান করেন।

এরপর মনোনয়ন বোর্ড আবেদনকারী সম্ভাব্য প্রাথীদের মাঠ জরিপের ও গোয়েন্দা রির্পোট এবং তৃনমূল নেতৃবৃন্দের ভোটের ফলাফল সর্বোপরী যোগ্যতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর বিবেচনা করেই চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ অথর্ব মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত।

সম্পাদক, চেতনায় একাত্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *