১০ম শ্রেণীর ছাত্রীকে জোড় করে বিয়ে : সিরাজদিখানে নববধুকে কেন্দ্র করে হামলা আহত ৩

নাছির উদ্দীন: সিরাজদিখানে ১০ম শ্রেণীর ছাত্রীকে জোর করে বিয়ে করে পূর্বের সাবেক প্রেমিক স্বামীর উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চান্দের চর গ্রামে শুক্রবার বিয়ের পর শনিবার বিকেলে বিয়ে করা নববধুকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রেমিক স্বামী উপর প্রভাবশালীর বর হামলা করার ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ৪ মাস পূর্বে একই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আব্দুল ওহাবের মেয়ে পূর্ব খাসকান্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী জিমি আক্তার ও মৃত ফয়জল করিমের কলেজ পড়–য়া ছেলে জনি দুজন প্রেমের সম্পার্ক থাকায় বাড়ী থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। সম্পদশালী ওহাবের একমাত্র সন্তান জিমি হওয়ায় সম্পদের লোভে এলাকার সুরুজ মিয়ার ছেলে প্রভাবশালীর নব্য নেতা কামিজউদ্দিন কামুর পরিকল্পনা করে তার ভাতিজা শাকিলের সাথে জিমির বিয়ে দেয়ার জন্য পায়তারা শুরু করে। গত ২ মাস পূর্বে জনি ও জিমিকে একটি ঘরে বন্দী করে জিমিকে মারধর শুরু করে। জনিকে যাতে তালাক দেয়। জোরপূর্বক জনির কাছ থেকে তালাক নামায় স্বাক্ষক নেন। গত শুক্রবার কামিজউদ্দিন কামুর বড় ভাই হাবি মিয়ার ছেলে মো. শাকিল (২৫) সাথে জোর করে স্কুল ছাত্রী জিমির অমতে বিয়ে দেয়া হয়। জিমি শাকিলকে মেনে না নেওয়ায় শনিবার বিকালে আব্দুল্লাহপুর বাজার থেকে বড় ভাই কাজলের ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ী ফিরার পথে কামিজউদ্দিন কামুর নির্দেশে বর মো. শাকির (২৫) ও তার ভাই আখির (২২) সহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গ মিলে

জনিদের রাস্তায় আটকিয়ে ফিল্ম স্টালে কামু বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। সাথে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মো. জনি (২২) ও তার ভাই মো. ইসরাফিল (৪০) এবং শাজাহানের ছেলে রনি(১৮) কে দা দিয়ে কুপিয়ে মাথা ফাটিয়ে গুরুতর আহত করলে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ বিষয় রাতে কাজল বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় অভিযোগ করেন।

আহত জনি জাননা, জিমির সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমরা বিয়েও করেছিলাম। ২ মাস পূর্বে আমার কাছ থেকে জোর করে তালাক নামায় স্বাক্ষর নেয়। শনিবার বিকালে আব্দুল্লাহপুর থেকে ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকাসহ বাড়ী ফিরার পথে আমাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

অভিযুক্ত কামিজউদ্দিন কামু জানান, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। মেয়েটির সাথে বিয়ে হয়নি। দিন তারিখ ঠিক করতে গিয়েছিলাম। হামলার বিষয় আমি কিছু জানিনা।

স্কুল ছাত্রী জিমির অভিবাবক সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে এ বিষয়ে কোন কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিরাজদিখান থানার ওসি আবুল কালাম হামলার ঘটসার সত্যতা স্বীকার করে বলেন অভিযোগ পেয়েছি। মামলা প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *