আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রীতি এবং বাংলাদেশের রাজনীতি

জসীম উদ্দীন দেওয়ান : এ কথাটি সবারই জানা, বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে দুইটি বড় দল আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি। আর এই দুটি দলের সমর্থন করে থাকেন বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগন। এর মধ্যে অনেকেই আছে দলীয় নেতাকর্মীদের মতো নিজের দলকে ভালোবেসে অন্যের দলকে পঁচানোর চেষ্টা করে উগ্রতার মাধ্যমে।

আর এ দেশের কিছু সংখ্যক জনগন আছে যারা আমাদের রাজনীতিবিদদের উগ্রতা, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল একে বারেই পছন্দ করেননা। তাঁরা সমমনাদের সাথে সেই রাজনীতিবিদদের আচার আচরণ নিয়ে চরমভাবে সমালোচনা করে থাকেন। তাঁদের ধারণা বাংলাদেশের জনগন বা ভোটারগন ভালো। ভালোনা শুধু রাজনীতিবিদরা। তাঁদের ধারণা এবার পাল্টে দিয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা- ব্রাজিল এ দুটি দলের বাংলাদেশের সমর্থকদের অধিকাংশ উগ্রবাদের কারণে। এ দুটি দলের সমর্থকরা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এমন বাজে আচরণ করেছে যার অনেকটা ফেস বুক খোললেই বিভিন্ন ট্রল দেখে আপনারা বুঝতে পেরেছেন। বুঝতে অসুবিধে হয়নি আমরা বাংলাদেশীরা মানুষিকভাবে কতোটা সভ্যতা থেকে গড়িয়ে পরেছি।

নিজের মানুষিকতাকে জয়ী করতে বিশ্ব তারকাদের অপমান, অপদস্ত করার মতো যতো রকম কূকৌশল ছিলো সবটাই ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবল উম্মাদনায় বাংলাদেশের দর্শক বা সমর্থকরা এতোটাই উম্মাদ যে তাঁরা চায়না তাঁর পছন্দের দল ছাড়া অন্য কোন দলের সমর্থন কেউ করুক। যত রকমের গোড়ামি এবং নগ্ন ভাষা প্রয়োগে একে অপরকে মস্তক চড়া হবার মতো পরিস্থিতি করে তুলেছে। আমরা বাংলাদেশের রাজনীতিকে নোংরা রাজনীতি ভেবে সভ্যজনরা রাজনীতি বর্জন করি। দোষ দেই নেতাদের। বিশ্বকাপ ফুটবল চলা কালীন এ দেশের দুটি দলের সমর্থকদের আচরণে সে ধারণা পাল্টে গেছে।

এটা স্পষ্ট মনে হয়েছে বাংলাদেশের জনগন কতোটা নোংরা। আমাদের রাজনীতিই কেবল নোংরা সেইটা আর বলা যাবেনা। আসলে আমরা সকলেই নোংরা। চিত্ত বিনোদনের এতো বড় মাধ্যম বিশ্ব ফুটবলটিকে নিয়ে আমরা যে নোংরামী করেছি। তাতে কি বলা যায়না, আমরা নষ্টদের দলে চলে গেছি? আগামীতে এই নষ্টামী আমাদের বড় বড় অঘটনের হাত থেকে রেহায় করতে পারবে কিনা সেইটাও ভাববার বিষয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *