সিরাজদিখানে বাচ্চু হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় জেএমবির ৬ জঙ্গী

শংকর কুমার দে ॥ মুন্সীগঞ্জে মুক্তমনা লেখক ও প্রকাশক শাজাহান বাচ্চু হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে জেএমবির ৬ জঙ্গী। হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী ৬ জনের মধ্যে এখনও ৫ জঙ্গী পলাতক। জেএমবির সামরিক কমান্ডার আবদুর রহমান পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। জেএমবির সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শাজাহান বাচ্চুকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের দাবি। পলাতক জঙ্গীরা দেশের উত্তরাঞ্চলে ঘাঁটি গেড়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা। জঙ্গীরা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে গোপনে তৎপরতার চালাচ্ছে বলে তথ্য পাচ্ছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। জেএমবির পলাতক ৫ জন এখন জঙ্গী হামলার জন্য হুমকি হওয়ার কারণে তাদের গ্রেফতারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশক ও মুক্তমনা লেখক শাজাহান বাচ্চুকে হত্যার তিন মাস আগে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের খাসমহল এলাকার একটি বাসা ভাড়া নেয় জেএমবির সামরিক কমান্ডার আবদুর রহমান। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১১ জুন ইফতারের আগ মুহূর্তে মধ্যপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব কাকালদি তিন রাস্তার মোড়ে গুলি করে হত্যা করা হয় প্রকাশক শাজাহান বাচ্চুকে। আবদুর রহমান লালু, সাঈদ, আক্কাস ও কাওসার ছদ্মনাম ধারণ করে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করত। বাচ্চুকে হত্যার ১৩ দিনের মাথায় ২৪ জুন গাজীপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার ঘরের আলমারি থেকে দুটি ৭.৬৫ পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি ও রান্না ঘর থেকে চারটি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। আবদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে শাজাহান বাচ্চু হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আবদুর রহমান পুলিশকে জানিয়েছে, বাচ্চু কিলিং মিশনে আরও ৫ জেএমবি সদস্য অংশ নেয়। ২০১৫ সাল থেকেই প্রকাশকের গতিবিধি লক্ষ্য করে আসছিল তারা। আব্দুর রহমান পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার ঢাকাইয়া পাড়ার হোসেন আলীর ছেলে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র এক কর্মকর্তা জানান, তিন মাস আগে গাড়িচালক পরিচয় দিয়ে প্রবাসী ইয়াকুব আলির বাসা ভাড়া নিয়ে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। আবদুর রহমান গুলি করে প্রকাশক বাচ্চুকে হত্যা করে। এ ঘটনার সঙ্গে ৬ জন আছে এবং যাদের বিস্তারিত জানা গেছে। জেএমবির সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এ হত্যা করা হয়। পলাতক জঙ্গীদের গ্রেফতার করতে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ, এন্টি টেররিজম ইউনিট, পুলিশ হেডকোয়াটার্স ইন্টিলিজেন্স উইং, বগুড়া জেলা পুলিশ এবং গাজীপুর জেলা পুলিশের টিমের সহায়তায় গাজীপুর জেলার কেওয়া পশ্চিমখ- গ্রামে একটি দুইতলা বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় আব্দুর রহমান ওরফে লালু, সাঈদ, আক্কাস, কাওসারকে। তার দেয়া তথ্য মতে তার ঘড়ের আলমারির ড্রয়ারের নিচ থেকে ২টি ৭.৬৫ পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি ও রান্না ঘরের তাক থেকে চারটি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সে শাজাহান বাচ্চু হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত কথা জানায়। সে ঢাকা বিভাগের জেএমবির সামরিক কমান্ডার। এ ঘটনার সাঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য গাজীপুর, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, সিরাজদিখান থানার বালুরচর ইউনিয়নের খাসমহল এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে হত্যাকা-ের পরিকল্পনা করতে একত্রিত হয় জেএমবির জঙ্গীরা। ওই বাসায় তল্লাশি পরিচালনা শেষে ফেরার পথে মোটরসাইকেলে করে আসা সহযোগীরা আবদুর রহমানকে ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্য পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। তাদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির সময় আব্দুর রহমান দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। গোলাগুলির শব্দ শেষে আব্দুর রহমানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আবদুর রহমান বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও তার সহযোগী অপর ৫ জেএমবির জঙ্গী এখনও অধরা।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *