লৌহজংয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার কারণ পচা পানি

দীর্ঘদিন ধরে স্কুল মাঠে জমে থাকা ময়লা, পচা, দুর্গন্ধযুক্ত হাঁটু পানি দিয়ে ক্লাসরুমে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এটি লৌহজং উপজেলা সদরের লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের ঘোড়াদৌড় বাজারের পাশে উত্তর দিঘলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র।

উপজেলার ৭২টি সরকারি ও রেজিস্ট্রিকৃত বিদ্যালয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ উত্তর দিঘলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান এ দুরবস্থা। দেখার যেন নেই কেউ। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং পাশেই অবস্থিত মাছ ও সবজি বাজারের ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি দিয়ে স্কুল মাঠটি সয়লাব হয়ে যায় একটু বৃষ্টিতেই।

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন স্কুল মাঠের এ বদ্ধ পানি পচা-দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। দূষিত এ পানির কারণে প্রতিনিয়তই সর্দি, কাশি, জরসহ নিউমোনিয়ায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়টিতে প্রায় নয় শতাধিক শিক্ষার্থী; যাদের মধ্যে শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। প্রতিদিনই বেশ কিছু শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে স্কুলের এ পরিবেশের কারণে।

অভিভাবক উম্মে কুলসুম জানান, তার ছেলে এ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাচ্চা নিয়ে স্কুলে এলেই ক্লাসের ফাঁকে সে মাঠে জমে থাকা ময়লা পানিতে চলে যায় খেলা করার জন্য, বাধা দিয়েও রাখা যায় না। আর এসব ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে খেলা করে শিশুরা অনেকেই সর্দি, কাশি, জ্বর ও এলার্জিতে ভুগছে।

এমন অভিযোগ অভিভাবক মরিয়ম বেগম, রহিমা খাতুন, ঠাকুর দাশ, মর্জিনা আক্তারের। এদিকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার্থীদের আগামী ৫ তারিখে চূড়ান্ত মডেল টেস্ট। এ পরিবেশে শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষা দেবে এনিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা। বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে উপজেলা রিসোর্ট সেন্টার, যেখানে প্রতিনিয়ত চলছে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ।

প্রশিক্ষণরত শিক্ষকরা এ ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি দিয়েই তারা ট্রেনিং সেন্টারে যাতায়াত করছেন। এ বিষয়ে কথা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক মৃধার সঙ্গে। তিনি জানান, বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে থাকার বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা, সামান্য বৃষ্টি হলেই স্কুল মাঠটি পানিতে ভরে যায়।

পানি দ্রুত নিষ্কাশন ব্যবস্থাও না থাকায় এবং আশপাশের পুকুর-ডোবা ভরাট হয়ে যাওয়ায় গত এক বছর ধরে এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুব শিগগিরই করার কথা রয়েছে। তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদির জানান, বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন এ সমস্যাটির দ্রুত সমাধানের জন্য।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *