প্রকাশক বাচ্চু খুন: বাসা ভাড়া নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে জেএমবিরা

মঈনউদ্দিন সুমন: প্রকাশক ও মুক্তচিন্তার লেখক শাহজাহান বাচ্চু হত্যায় জড়িত থাকা জেএমবি সদস্য আবদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর গোলাগুলি বিনিময়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় সম্মেলন করেছেন পুলিশ সুপার।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম আরোও জানান, তিন মাস আগে গাড়ি চালক পরিচয় দিয়ে প্রবাসী ইয়াকুব আলির বাসা ভাড়া নিয়ে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। আবদুর রহমান গুলি করে প্রকাশক বাচ্চুকে হত্যা করে। এই ঘটনার সাথে ৪জন ছাড়াও আরোও ২জন আছে এবং যাদের বিস্তারিত জানা গেছে। জেএমবির সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত মাধ্যমে এই হত্যা করা হয়। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত পরে বলা যাবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেফতার করতে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ, এন্টি টেররিজিম ইউনিট, পুলিশ হেডকোয়াটার্স ইন্টিলিজেন্স উইং, বগুড়া জেলা পুলিশ এবং গাজীপুর জেলা পুলিশের টিমের সহায়তায় গাজীপুর জেলার কেওয়া পশ্চিমখন্ড গ্রামে একটি দুইতলা বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় আব্দুর রহমান ওরফে লালু, সাঈদ, আক্কাস, কাওসার(৩৪)। সে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার ঢাকাইয়া পাড়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে।

তার দেওয়া তথ্য মতে তার ঘড়ের আলমারির ড্রায়ারের নিচ থেকে ২টি ৭.৬৫ পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি ও রান্না ঘড়ের তাক থেকে চারটি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সে শাহাজাহান বাচ্চু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বলে জানায়। সে ঢাকা বিভাগের জেএমবির সামরিক কমান্ডার। এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যাক্তি ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য গাজীপুর, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জে অভিযান চালনা করা হয়।

এক পর্যায়ে সে জানায়, সিরাজদিখান থানার বালুরচর ইউনিয়নের খাসমহল এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করে। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে উক্ত বাসায় তল্লাশি পরিচালনা শেষে ফেরার পথে মোটর সাইকেলে করে আসা সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য পুলিশের ওপর গুলি বর্ষণ করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। তাদের সাথে পুলিশের গোলাগুলির সময় আব্দুর রহমান দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

গোলাগুলির শব্দ শেষে আব্দুর রহমানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সংঘর্ষে এএসআই বেলাল উদ্দিন, এএসআই হাসান সাঞ্জারী ও কং-/১৫৪ মোশারফ হোসেন আহত হয়। আহতরা মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। এ স্থানে তল্লাশী করে একটি ৭.৬৫ পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, নয় রাউন্ড গুলি, একটি লাল রঙয়ের পালসার মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়। যার রেজি- গাজীপুর-ল-১১-০২১৮।

আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একটি হত্যা মামলাসহ তিনটি ডাকাতি মামলায় জড়িত ছিল। ঢাকা দক্ষিণের মামলা নং-৫৯/১৪৮ তারিখ-২৯-৩-২০১৮, ধারা-৩৯৫/৩৯৭/৪১২।

আসামি নিহতের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করে প্রকাশক হত্যা মামলার বাদী দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানা বেগম জানান, জেএমবি এই হত্যায় জড়িত থাকার কারনে ঘৃণা প্রকাশ করছি। এছাড়া বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তিনি।

সোনালীনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *