গজারিয়ার প্রধান সড়ক চলাচলের অযোগ্য

‘গজারিয়া উপজেলার হৃদপিণ্ড’ নামে পরিচিতি লাভ করা সড়ক ও জনপথের ৯ কিলোমিটার সড়কটি মুন্সীগঞ্জ জেলার সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ সড়ক। প্রায় ৩ কিলোমিটার এ সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সংস্কারের অভাবে রাস্তায় খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পরিণত হয়েছে জলাশয়ে। রাস্তার কিছু জায়গায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতীকী ধানের বীজ রোপন ও মাছ চাষ করছেন।

এলাকাবাসীর পাশাপাশি রাস্তাটি ব্যবহার করছে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গজারিয়া সরকারি কলেজ, গজারিয়া থানা, গজারিয়ার একমাত্র বাজার ‘ভবেরচর বাজার’সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা ও শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

রাস্তাটি সংস্কারের দাবীতে ২০১৬-২০১৭ সালে একাধিকবার স্থানীয় এমপি এ্যাড. মৃনাল কান্তি দাস, উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ্ খান ও উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ হাজারো নারী-পুরুষ মানববন্ধন করে দাবি জানিয়েছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী যাওয়ার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পথরোধ করে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানায় স্থানীয়রা। মন্ত্রী তখন সড়কটি সংস্কারের নির্দেশ দেন। তাতে সওজের কর্মকর্তারা গত বছর সাময়িক ভাবে ইট, বালু ফেলে ভাঙ্গা স্থানগুলো সংস্কারের চেষ্ঠা করে।

চলতি সনের ২২মে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজন নিরসনকল্পে করণীয় আলোচনা সভায় গজারিয়া উপজেলা দৈনিক ইত্তেফাক সংবাদদাতার প্রশ্নের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানার বক্তব্যে রাস্তাটি পুনরায় সংস্কারের দাবি করা হলে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সওজের সংশ্লিষ্ট সকলকে রাতদিন ২৪ঘন্টা কাজ করে রাস্তাটি ৭দিনের মধ্যে চলাচলের উপযুক্ত করার নির্দেশ দেন। তবে দূর্ভাগ্যের বিষয় এখনও রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু করেনি কেউ।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, মাননীয় মন্ত্রীর নির্দেশে ৭ দিনের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কারের কথা ছিল। তবে কেন হয়নি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানানো যাবে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাস্তাটিতে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার একটি প্রাইভেট টেন্ডারের বিষয় রয়েছে। ইচ্ছে করলেই কাউকে দিয়ে কাজটি করানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে কিছুদিনের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।

ইত্তেফাক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *