আজ কাঠমন্ডু মাতাবে অন্বেষণ বিক্রমপুর

নেপালের রাজধানী কাঠমন্ডুতে আজ শনিবার আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের পর্দা উঠছে। এতে বাংলাদেশসহ ১২টি দেশ অংশ গ্রহন করছে। জমকালো উদ্বোধনীর সব প্রস্তুতি এখন সম্পন্ন। চারিদিকে সাজসাজ রব। এই উৎসব ঘিরে নানা রকম সাজে সাজানো হয়েছে ভ্যেনু ও আশপাশের এলাকা। রংবেরংয়ের পোস্টার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। অংশগ্রহনকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বাংলাদেশ নাম।

সকালে বর্ণাঢ্য র্যালি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। এতে অংশগ্রহনকারী দেশের নাট্যকর্মীরাও অংশ নিবে। পরে অকসরা স্কুল অডিটরিয়াম মঞ্চে নাটক মঞ্চস্থ হবে। চারদিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধনী দিনেই মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশের নাটক। বাংলাদেশ থেকে এই নাট্যোৎসব অংশ নিচ্ছে মুন্সীগঞ্জের “অন্বেষণ বিক্রমপুর।” স্থানীয় সময় বেলা ১২ টায় বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক “মৃত্তিকার ফুল (ফ্লাওয়ার অফ দ্যা সয়েল)” মঞ্চস্থ করবে। ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সুস্মিতা মল্লিকের অন্যবদ্য অভিনয়ে ফুটে উঠবে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ৩০ মিনিটের এই নাটকের কয়েকটি দৃশ্যে দেখা যাবে তার বোন শ্রাবণী মল্লিককে। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন নাট্যকার জাহাঙ্গীর আলম ঢালী। নাটকটির নেপথ্য কণ্ঠেও রয়েছেন তিনি। আর আবহ সংগীতের রয়েছেন মাহামুদুল হাসান অপু। চার সদস্যের বাংলাদেশ দল শুক্রবার দুপুরে কাঠমন্ডু পৌছেছে। ত্রিভূবন বিমানবন্দরে দলটিকে অভ্যর্থনা জানায় নেপালের আয়োজক নাট্যকর্মীরা। বিকালে দলটি চূড়ান্ত মহড়ায় অংশ নেয়।

দ্বিতীয় কাঠমন্ডু অকসারা ইন্টারনেশনাল চিল্ড্রেন্স থিয়েটার ফেস্টিবেলে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নিচ্ছে- ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ডেনমার্ক, জার্মানী, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, স্লোভেকিয়া, সুইজারল্যান্ড, ভেনেজুয়েলা ও স্বাগতিক নেপাল।

আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবসটির পরিচালক নাট্যকার তনকা চাউলাগান জানান, এটি শুধু নেপালেরই নয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম নাট্যোৎসব। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অংশগ্রহনকারী দেশগুলোর দেশজ নাটক এবং নাট্যকর্মীদের উপস্থিতি ছাড়াও সবগুলোদেশের মাটিও একত্রিত করা হবে। উড়বে দেশগুলোর জাতীয় পতাকা এবং বাজানো হবে জাতীয় সঙ্গীত। যাতে সব ভাল ছড়িয়ে পরে সর্বত্র। আর নাট্য আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মানব কল্যাণ সাধন হবে।

কাঠমন্ডু স্বনামধন্য শিক্ষালয় অকসারা ইন্টারনেশনাল স্কুল দ্বিতীয় বারের মত সারা জাগানো এই উৎসবের আয়োজন করেছে।

বাংলাদেশ দলটির এই উৎসবে অংশ গ্রহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা। তিনি বলেন, আমাদের নাট্যকর্মীরা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অংশ নিয়ে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে পারবে। এতে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনসহ নাট্য আন্দোলনে আরও জোরাল ভূমিকা রাখতে পারবে। আর এতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশজ সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউল ইসলাম হিরু বলেন, এত বড় একটি উৎসবে মুন্সীগঞ্জের একটি দল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে এটি খুবই গর্বের। এতে আমাদের নাট্যকর্মীরা আরও অভিঞ্জতা সঞ্জার করতে পারবে।

অন্বেষণ বিক্রমপুরের সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের এই নাটক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল বীরত্বগাঁথাকে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমার বিশ্বাস এই নাটক পুরো উৎসবে বিশেষ অবস্থান তৈরী করবে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবে। মঙ্গলবার উৎসবটি শেষ হবে।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *