আজ টঙ্গীবাড়ির পাঁচগাঁও ইউপি নির্বাচন : সহিংসতার আশঙ্কা

আজ মঙ্গলবার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হলেও উৎকণ্ঠায় রয়েছে সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীরা। এর আগে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব চলে ওই নির্বাচনী এলাকায়। নির্বাচনীয় আচরণবিধি অনুযায়ী পোস্টার ঝোলানোর কথা থাকলেও দেয়ালসহ বিভিন্ন স্থান ছেয়ে গেছে পোস্টারে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনায় প্রার্থীসহ সাধারণ ভোটাররা চরম আতঙ্কে রয়েছে। সোমবার সকালে বিএনপি প্রার্থী আলী আহমদ সেখের ছেলে সাগর সেখকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মঞ্জুর আলী সেখের লোকজন।

সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘ ৭ বছর পড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার অলি-গলির সর্বত্র চলছে নির্বাচনী আমেজ। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াতে ভোটারদের মুখে হাসি ফুটলেও অজানা আতঙ্কে রয়েছে তাদের মন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ইবনুল কবির মিঠু মুন্সী মননোয়নপত্র প্রত্যাহার করায় নির্বাচনে কিছুটা ভাটা পড়েছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগের দু’জন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে নৌকা প্রার্থী না থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী মঞ্জুর আলী শেখ আনারস প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী প্রচার করে প্রভাব বিস্তার করেছেন। নির্বাচনে ৬ জন চেয়ারম্যান পদে, সাধারণ সদস্য পদে ২৯ জন পুরুষ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৩ জন নারী সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৯টি ভোট কেন্দ্রে ৩২টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে। ইউনিয়নটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৫৯২ এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৪৭ জন এবং নারী ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ৫৪৫ জন। একই দিনে পার্শ্ববর্তী সোনারং টঙ্গীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী আলী আহম্মেদ শেখ বলেন, ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বহিরাগতারা দিনভর মহড়া দিচ্ছে। অবাদ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানান তিনি। চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলেনূর রহমান মিলন অভিযোগ করে বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে সরিয়ে দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্রপ্রার্থী আনারস প্রতীকের মঞ্জুর আলী শেখের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নেতারা প্রকাশ্যে তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমার সমর্থকদের প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। মঞ্জুর আলী শেখের লোকেরা বলে বেড়াচ্ছেন, চশমায় ভোট দিলে খবর আছে। সাধারণ ভোটারটা আতঙ্কে রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হুমকি, কেন্দ্র দখল, সাধারণ ভোটরদের ভয়ভীতির বিষয়টি অস্বীকার করে এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের মঞ্জুর আলী শেখ বলেন, জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। তারা আমার জন্য ভোট ও দোয়া চাচ্ছেন। নৌকার প্রার্থী সরে যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. বদর উদ-দোজা ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে ১ প্লাটুন বিজিপি, প্রচুর পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়ান করা হয়েছে এবং মাঠে তিনজন মেজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। অবাধ, সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *