পাঁচগাঁও ইউনিয়নে নৌকাবিহীন ভোট!

সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২০১৬ সালে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত ছিল। জটিলতা নিরসনের পর নিবার্চন কমিশন আগামী ১৫ মে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার পর থেকেই উৎসাহ বিরাজ করছে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের যাচাই বাছাই পর্ব শেষ হয়েছে। কিন্তু ৬ প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও থাকছে না নৌকা প্রতীকের কোনো প্রার্থী। এক কথায় নৌকা ছাড়াই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ বদর-উদ-দোজা ভূইয়া জানান, পাঁচগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইবনুর কবির (মিঠু মুন্সী) নৌকা প্রতীক পেয়ে নির্বাচনে প্রচার প্রচারণা চালালেও ২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার প্রার্থীতা প্রত্যহার করেন। এ কারণে নৌকা প্রতীক ছাড়াই এই ইউনিয়ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি জানান, কোনো প্রার্থী কোনো কারণ ছাড়াই নির্বাচন প্রত্যাহার করতে পারে। তবে তিনি বাবার অসুস্থতার জন্য তাকে ভারতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাবেন, এই মর্মে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। তিনি ওই দিন সাড়ে সকাল ১০ টায় স্বশরীরে উপস্থিত থেকে নির্বাচন প্রত্যাহার করেন।

নৌকার প্রার্থী ছাড়াও যাচাই বাছাই শেষে পাঁচগাঁও ইউনিয়ন নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এরা হলেন- আলহাজ্ব মঞ্জুর আলী শেখ (স্বতন্ত্র), আলী আহমেদ শেখ (বিএনপি), মিলেনুর রহমান হালদার (স্বতন্ত্র), তৈয়েবুর রহমান (স্বতন্ত্র), শেখ মাহমুদুর রহমান (স্বতন্ত্র) ও আনোয়ার হোসেন (স্বতন্ত্র)।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল শুক্রবার রংমেহার পল্লী উন্নয়ন সংঘের কার্যালয়ে পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুহানা তাহমিনা, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জগলুল হালদার ভূতু, সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ বারেক প্রমুখ।

প্রার্থী বাছাই নির্বাচনে ৪ জন প্রার্থীকে ২২ জন কাউন্সিলর ভোট প্রদান করেন। এর মধ্যে ১৪ ভোট পেয়ে পাঁচগাঁও ইউনিয়ন ওলামা লীগের সভাপতি মঞ্জুর আলি শেখ প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পায়। আওয়ামী লীগের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন- পাঁচগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদ হোসেন ঢালী, সাধারণ সম্পাদক মিঠু মুন্সী এবং সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মিলেনুর রহমান।

পরবর্তীতে ইবনুর কবির (মিঠু মুন্সী) কেন্দ্রীয় ভাবে লবিং তদবির করে নৌকা প্রতীকের নমিনেশন নিশ্চিত করেন ও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যান। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আগের দিন ২৫ এপ্রিল বুধবার অজ্ঞাত কারণে হটাৎ প্রচারণা থেকে সরে যান। এমতাবস্থায় কর্মী সমর্থকরা তাকে খোঁজ করে আর পাচ্ছিলেন না। এমনকি তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ইবনুর কবিরের বড় ভাই টিটু মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তার ভাই মিঠু মুন্সী নির্বাচনের সার্বাধিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রচারণা শুরু করে। কিন্তু হটাৎ সকলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ২৫ এপ্রিল তার সঙ্গে সারাদিনে একবার মোবাইল ফোনে কথা হয়। সেসময় নির্বাচনের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন- ‘তুমি চেয়ারম্যান চাও না ভাই চাও?’ এই বলে ফোন রেখে দেন। পরদিন ২৬ এপ্রিল প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।

এদিকে মিঠু মুন্সীর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর থেকে হাজী মঞ্জুর আলী শেখকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাহাত খান রুবেল ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এমিলি পারভিনসহ অন্যান্যদের দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান জানান, আমরা সেন্ট্রালে তিন জনের নাম পাঠিয়েছিলাম। এক নম্বরে ছিলো আলহাজ্ব মঞ্জুর আলী শেখ। দ্বিতীয়তে ইবনুর কবির (মিঠু মুন্সী) ও তৃতীয় নামটি ছিলো আমাদের আওয়ামী লীগ কর্মী মিলেনুর হালদার। তবে সেন্ট্রাল থেকে দ্বিতীয় নম্বরের মিঠু মুন্সীকে মনোনয়ন দেয়। এমতাবস্থায় মিঠু মুন্সী স্থানীয়ভাবে প্রচার প্রচারণায় নামার পর তার জনপ্রিয়তা কম দেখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

তিনি জানান, মিঠু মুন্সী নির্বাচন প্রত্যাহার করার পর আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে পুরো কমিটি মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেই আলহাজ্ব মঞ্জুর আলী শেখের পক্ষে কাজ করার জন্য। এর ধারাবাহিকতায় আমরা প্রচারণায় নামি। তবে নৌকার প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব মঞ্জুর আলী শেখ ও মিলেনুর রহমান হালদার মাঠে রয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার বড় ভাই টিটু মুন্সীকে সে কী বলেছে, সেটা ওনাদের পারিবারিক বিষয়। মূল কথা হলো মিঠু মুন্সী তার জনসমর্থন অবস্থা দেখে বুঝতে পেরে নির্বাচন প্রত্যাহার করেছে।

ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/জাগো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *