দেশে উন্নয়ন হলেও বেড়েছে শ্রেণীবৈষম্য – সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে শ্রেণীব্যবস্থার যে পরিবর্তন আসার কথা ছিল, সেটি আসেনি।

অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটছে মেহনতিদের শ্রমে ও ঘামে এবং পুঁজিবাদী কায়দায়। তাই শ্রেণীবৈষম্য কমেনি বরং বেড়েছে এবং বাড়ছে। শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ আমরা পাইনি।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়াতনে এক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাতি ও শ্রেণী প্রশ্নে চিন্তা ও দুশ্চিন্তা উপমহাদেশে, বাংলাদেশে’ শীর্ষক গুণিজন বক্তৃতার আয়োজন করে জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যপক ড. অজয় রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. আহরার আহমদ এবং অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর পরিচিতি পাঠ করেন ঢাবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর অর্থনীতিকে সমাজতন্ত্র অভিমুখী চালনা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। শক্তিশালী একটি প্ল্যানিং কমিশন গঠন করা হয়েছিল।

তার সদস্যরা অনেক পরিশ্রম ও গবেষণা করেছেন, কিন্তু তাদের প্রস্তাবগুলো কার্যকর হয়নি। উল্টো প্ল্যানিং কমিশন নিজেই ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন জ্ঞানের চর্চা কমে গেছে।

মাটির তলে যেমন পানির স্তর কমে যাচ্ছে, বায়ুর মান নিুগামী, আমরা খবর রাখি না। জ্ঞানচর্চার অবস্থাও সেই রকমেরই।

ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, শ্রেণী প্রশ্নের মীমাংসাটাই সর্বাধিক জরুরি, কিন্তু তার জন্য জাতি প্রশ্নেরও মীমাংসা চায়। কেননা জাতিগত ভেদাভেদটা জিইয়ে রেখে শাসকশ্রেণী চেষ্টা করে শ্রেণীচেতনাকে ভোঁতা করে দিতে।

স্বাধীনতার পর জাতীয়তাবাদীরা কেউই শ্রেণী বিভাজনকে ভাঙতে চাননি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আশা জেগেছিল যে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ মুক্তি পাবে।

কিন্তু কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ আমরা পাইনি। কারণ যে ঐক্য, উদ্দীপনা, উদ্ভাবনা ও অঙ্গীকার মুক্তিযুদ্ধের সময় দেখা গিয়েছিল, সেটা অক্ষুণ্ণ থাকেনি।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *