মুন্সিগঞ্জ শহরে বিদ্যুতায়নের প্রাক্কথন

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল: জেলা শহর মুন্সিগঞ্জ। ঢাকা হতে মাত্র ১২ মাইল বা ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে। জেলা শহরে কবে কখন কীভাবে বিদ্যুতায়ন হয়েছিল তা কেউ সঠিক ভাবে জানাতে পারেনি। সহজ করে এভাবে বলতে পারি মুন্সিগঞ্জ শহরের বিদ্যুতায়ন সর্ম্পকে কারোই সঠিক ধারণা নেই। তবে অনেক খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল এখন থেকে ৮০ কিংবা ৮১ বছর আগে বরফ কল হতে বিদ্যুৎ সাপ্লাই হতো শহরের। মুন্সিগঞ্জ শহরের উত্তর পাশে ধলেশ্বরী নদীর দক্ষিণ তীরে ছিল বরফ কল। সেখান হতে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। সে বিদ্যুতের সাহায্যে শহরের লঞ্চঘাট হতে কাচারীঘাট পর্যন্ত প্রধান সড়কের পাশে বাতি জ্বালানো হতো। ২০১৮ সালে যদি বরফ কলের বয়স ৮১ বছর হয়। তবে এটির প্রতিষ্ঠাকাল (১৯৩৭) সাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। তা হলে আমরা ধরে নিতে পারি ৮০ বছর আগে কোন এক সময় মুন্সিগঞ্জে প্রথম বিজলী বাতি জ্বলে।

বর্তমানে আমরা যেটাকে কারেন্ট বা ইলেকট্রিসিটি বলি সেটা কবে নাগাদ শুরু হলো। এমন প্রশ্ন মুন্সিগঞ্জ বাসীর মনে জাগতে পারে। তাও ধোয়াশাচ্ছন্ন। সঠিক দিন তারিখ কেউ বলতে পারেনি। কেউ বলছেন ১৯৬০ সালে। আবার কেউ বলেছেন ১৯৬১ সালে ডেসার মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। ধারণা করা হয় ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৬৩ সালের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ, রিকাবী বাজার, মুক্তারপুর, কাটাখালী, মিরকাদিম, আব্দুল্লাহপুর ও বেতকা বাজার পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বরফকল হতে বিদ্যুৎ সন্ধ্যা হতে রাত ৯টা ১০টা পর্যন্ত দেয়া হতো। ডেসা সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করতো। বরফ কল হতে দোকান, কিংবা বাড়ি ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়নি, ডেসা দোকান, বাড়িঘর, অফিস আদালতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতো।

বর্তমানে ২০১৮ সালে মুন্সিগঞ্জের ৬টি উপজেলায় তো বিদ্যুতায়ন হয়েছেই। সেই সাথে অধিকাংশ গ্রামেও বিদ্যুতের বাতি, পাখা, টিভি, ফ্রিজ চলে। বিদ্যুতের জন্যই প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের রয়েছে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ। বিদ্যুৎ আছে বলেই জেলায় বড় ও ভারী শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

 তথ্য
* শরীফ মাহমুদ
* রবীন্দ্র নারায়ণ দত্ত
* মিল ময় দাস

মুন্সিগঞ্জ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *