জনবল ৫০ শয্যার ॥ উন্নীত হচ্ছে ২৫০ শয্যায়

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করা হলে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ হবে হাসপাতালটি। ১২ বছর আগে ৫০ শয্যার হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল এখনও সেই ৫০ শয্যারই রয়ে গেছে। তাই নতুন ভবনের জন্য কোন জনবল না থাকায় সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের মানিকপুর এলাকার পুরাতন ১০০ শয্যার মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালটি খুব সামান্য সেবা দিচ্ছে রোগীদের। এছাড়াও ১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বর্তমানে হাসপাতালের সক্ষমতা সেই আগের ৫০ শয্যারই রয়ে গেছে। মাত্র ২০-২২ জন ডাক্তার দিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছে। এমনকি জেলার সবচেয়ে বড় এই হাসপাতালে কোন গার্ড নেই। তাই হাসপাতালের রোগী ও নির্মাণ ভবনের যন্ত্রাংশের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে। জানা গেছে, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হস্তান্তরের কথা থাকলেও গত বছরের জানুয়ারি মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এটি হস্তান্তর করার কথা ছিল। মুন্সীগঞ্জের গণপূর্ত অফিস সূত্র জানায়, লিথুরিয়াস নামে একটি গ্যাস যা তুরস্ক থেকে আমদানি করতে হয়। এই গ্যাসের কাজের জন্যই ভবনটির উদ্বোধন বারবার পেছানো হয়েছে। গ্যাসের ব্যবস্থা করা হয়ে গেছে। কাজ শেষ হতে আরও দুই মাস লাগতে পারে। হাসপাতালের বিভিন্ন রোগী ও স্বজনরা বলেন, অনেক সময় রোগীদের মেঝেতে বিছানা করে থাকতে হয়। অতিরিক্ত রোগীর চাপে প্রায় সময়ই ডাক্তার রোগীকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারেন না। ডাক্তার সঙ্কট থাকায় চেম্বারে রোগী দাঁড় করিয়ে ভিজিটে চলে যান ৩-৪ ঘণ্টা। জনবল না থাকায় বেশিরভাগ রোগীকেই ঢাকা প্রেরণ করে এতে করে নেয়ার পথেই মারা যায় অনেকেই। নতুন ভবনটি চালু করে জনবল বাড়িয়ে চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

সিভিল সার্জন ডাঃ হাবিবুর রহমান বলেন, পুরাতন ভবনে এখন ১০০ শয্যার বলা হলেও আসলে ৫০ শয্যার জনবল নিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নাক, কান, গলা, মেডিসিন ও চোখসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ কনসালটেন্ট আমাদের অনেকদিন ধরেই নেই। বিভিন্ন উপজেলা কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক এনে রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *