জাপানে বসন্ত উৎসব পালন

রাহমান মনি: জাপান প্রবাসীদের পরিচিত শিল্পী দম্পতি তানিয়া ইসলাম মিথুন এবং শরাফুল ইসলামের আয়োজনে বাংলাদেশ আর্ট ফোরাম জাপানের ব্যানারে ‘সারাটা জীবন হোক বসন্তকাল’ সে­াগান নিয়ে টোকিওতে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল টোকিও বসন্ত উৎসবের। সেই থেকে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে টোকিও বসন্ত উৎসব।

এবারের আয়োজনটি ছিল ষষ্ঠ বারের মতো। আর এবারের আয়োজনটি ছিল ইতাবাশি ওয়ার্ড এর অয়ামা গ্রীন হলে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকোনমিক মিনিস্টার ডঃ সাহিদা আক্তার। উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব মোঃ বেলাল হোসেনসহ সমাজের সর্বস্তরের ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা তানিয়া ইসলাম মিথুনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতি সম্প্রতি নেপাল দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে দাঁড়িয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্মরণ করা হয় দেশবরেণ্য প্রয়াত আজম খান, লাকী আকন্দ, আব্দুল জব্বার, ফিরোজা বেগম, আব্বাস উদ্দিন, আব্দুল আলীম, বশির আহমেদ, বারী সিদ্দিকীদের মতো গুণী শিল্পীদের। স্বাগতিক ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আর্ট ফোরাম জাপানের নির্বাহী পরিচালক শরাফুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইকনোমিক মিনিস্টার ড. সাহিদা আক্তার।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডঃ সাহিদা আক্তার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মার্চ মাস আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। এ মাসেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। এই মাসেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এই মাসে আমাদের অর্জন অনেক। সেই অর্জনকে, বাংলা সংস্কৃতিকে বিদেশের মাটিতে আপনারা পরিচিতি করাচ্ছেন এই জন্য আমি আমার ব্যক্তিগত এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলা সংস্কৃতিকে লালন করায় যেকোনো আয়োজনে দূতাবাস আপনাদের পাশে থাকবে এবং জাতীয় দিবসের আয়োজনগুলোতে বা দূতাবাস কর্তৃক যেকোনো আয়োজনে আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন থাকবে বলে দূতাবাস আশা করে।

এবছর বাংলাদেশ আর্ট ফোরাম জাপান, প্রবাসীদের পক্ষে চারজন উপদেষ্টা নিয়োগ দান করেন। এরা হচ্ছেন বাদল চাকলাদার, বিমান কুমার পোদ্দার, খন্দকার আসলাম হিরা এবং মীর রেজাউল করীম রেজা। এ ছাড়া দু’জন নতুন সদস্য নেয়া হয়। এরা হচ্ছে মৌ হোসেন এবং রুহী রাজীব।

দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মৌটুসি দত্ত। বরাবরের মতো এই পর্বটি নাচ, গান, অভিনয়, আবৃতি, বাঁশি দিয়ে সাজানো হয়।
কবিতা আবৃত্তি করেন উত্তরণ লিডার মোঃ নাজীম উদ্দিন এবং কামরুল আহসান জুয়েল। তারা দু’জনই প্রতিষ্ঠিত আবৃত্তিকার।

এবারের টোকিও বসন্ত উৎসবের মূল থিম ছিল বাংলাদেশের প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পীদের স্মরণে ‘তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম’।

শিশু শিল্পী নাশরাহ আহমেদ এবং তাসিন ইসলাম শব্দ’র অংশগ্রহণ এবং প্রদর্শন দর্শক উপভোগ করেন। এ ছাড়া মিথুনের পরিকল্পনায় নারী দিবসের বিশেষ শ্রদ্ধায় ছিল বাংলাদেশের পাঁচজন মহীয়সী নারীর জীবনালেখ্য। এ পর্বে প্রীতিলতা, শিরিন আক্তার মিতিল, বেগম রোকেয়া, কবি সুফিয়া কামাল, ইলা মিত্র যথাক্রমে মৌ হোসেন, শারমীন, হোসনেয়ারা তানজু, রুহী জামান এবং তোমোকো খন্দকার সার্থক রূপায়ণ করেন।

rahmanmoni@kym.biglobe.ne.jp

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *