হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য পদ্মায় বহাল বাঁধ

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: পদ্মা থেকে বাঁধ অপসারণে হাইকোর্টের নির্দেশনার পর ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেননি মুন্সীগঞ্জের সংশ্নিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বাঁধ নির্মাণের নেপথ্যে যুক্ত থাকা ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে। ফলে পদ্মায় অবৈধ বাঁধ দ্রুত অপসারণ ও টোল আদায় কার্যক্রম বন্ধ রাখা দূরের কথা, মুন্সীগঞ্জের শিলই ইউনিয়নের পূর্ব রাখী গ্রাম সংলগ্ন পদ্মা নদীতে নির্মিত অবৈধ বাঁধের ওপর দিয়ে গতকাল রোববারও ট্রলি ও মাহেন্দ্র পারাপার হতে দেখা গেছে। অথচ চার দিন আগে সদর ইউএনও জানিয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা পেয়েই পদ্মায় নির্মিত বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। বাস্তবতার সঙ্গে সদর উপজেলা প্রশাসনের ওই কর্মকর্তার বক্তব্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। অবৈধ বাঁধ অপসারণে দায়িত্ব পাওয়া শিলই ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম লিটন বলেছেন, বাঁধ নির্মাণে জড়িতদের বলা হয়েছে, দুই-তিন দিনের মধ্যে বাঁধটি ভেঙে ফেলতে।

সরেজমিন দেখা গেছে, গত ২২ মার্চ পদ্মা নদীতে নির্মিত অবৈধ বাঁধ দ্রুত অপসারণ ও টোল আদায় থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা ১১ দিনেও বাস্তবায়ন হয়নি। গতকাল রোববারও পানি প্রবাহিত হওয়ার পথ রুদ্ধ করে পদ্মার বুকে দাঁড়িয়ে আছে অবৈধভাবে নির্মিত বাঁধটি। এর ওপর দিয়ে চলছে ইঞ্জিনচালিত ট্রলি, মাহেন্দ্রসহ বিভিন্ন যানবাহন। গ্রামবাসী জানিয়েছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পদ্মায় বাঁধ নির্মাণ করেন শিলই ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম লিটনের ভাই ইসমাইল বেপারী। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার খবর পেয়ে ইসমাইল বেপারী ও তার সহযোগীরা নেপথ্যে গেলেও এখন টোল আদায় করছে ইউপি চেয়ারম্যান লিটন বেপারীর ভাতিজা জয় বেপারী ও তার সহযোগীরা। তবে কৌশল অবলম্বন করে এখন নির্মিত বাঁধের অদূরে স্থানীয় গোলাম হোসেনের বাগানবাড়ি আড়ালে অবস্থান নিয়ে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে টোলের টাকা আদায় করাছে তারা।

শিলই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম লিটন জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বাঁধ ভেঙে ফেলতে সংশ্নিষ্টদের বলা হয়েছে। আর ক’দিন পর বর্ষার পানি বৃদ্ধি পেলে এমনিতেই বাঁধটি পদ্মায় ডুবে যাবে। পদ্মার চরের কৃষকের সুবিধার জন্য কয়েক বছর ধরেই শুকনো মৌসুমে এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

গত ২২ মার্চ পদ্মায় নির্মিত বাঁধ দ্রুত অপসারণ ও টোল আদায় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই নির্দেশনার চিঠি সদর উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় ২৫ মার্চ। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতপ্রণোদিত হয়ে সরকারের সংশ্নিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা ইউএনও, শিলই ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্নিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সদর ইউএনও সুরাইয়া জাহান বলেন, নির্দেশনার চিঠি পেয়ে প্রতিবেদন প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। ইউপি চেয়ারম্যান পদ্মায় অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছেন।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *