মানুষ মানুষের জন্য , সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজীর জাপান প্রবাসীরা

হাসিনা বেগম রেখা: জাতিগতভাবে বাংলাদেশীরা ধর্মভীরু হলেও যে ধর্মান্ধ নয় একথা এখন প্রমাণিত স্বীকৃত। পশ্চিমারাও এখন তা মেনে নেন ।

জাপান প্রবাসীদের মধ্যে তা যেন আরেক ধাপ এগিয়ে / জাপানে বাংলাদেশ কমিউনিটির মধ্যে সবাই সবার সাথে সুসম্পর্ক ঈর্ষনীয় । দলমত , ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সবার বিপদে এগিয়ে যায়। আওয়ামীলীগ বিএনপি এক টেবিলে বসে অনেক সমস্যার সমাধান করে ফেলে। যেটা বাংলাদেশে অসম্ভব /

প্রবাসে সবাই সবার নিকটজন , আপন। প্রবাসে মৃত্যু কারোর ই কাম্য নয়। তারপরও মৃত্যু হয়। কারন , মৃত্যু শাশ্বত। মৃত্যু নিয়ে নিশ্চয়তা যেমন আছে , তেমনি অনিশ্চয়তা রয়েছে / অর্থাৎ মৃত্যু হবে এটা যেমন নিশ্চিত তেমনি কার , কখন , কোথায় মৃত্যু ঘটবে তার কথা কেউ বলতে পারেনা / অর্থাৎ অনিশ্চিত।

প্রবাসে একটি মৃত্যু নাড়া দেয় সমস্ত প্রবাসীদের ঠিক যেমনটি নাড়া দেয় তার স্বজনদের। প্রবাসে বিশেষ করে জাপানে মৃত্যু হলে একটি শবদেহ বাংলাদেশে নেয়া পর্যন্ত কম হলেও দশ লাখ বা এক মিলিয়ন ইয়েন যা , বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৮ লাখ টাকার প্রয়োজন হয় ।

মৃত্যুর কারোরই কাম্য না হওয়ায় এতো বড় অংকের টাকা কেউ হাতের কাছে রেখে যায়না। ধনীদের কথা অবশ্য ভিন্ন। নিকটাত্মীয় থাকলেও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। তখন আশেপাশের সবাইকে নিকটাত্মীয়ের ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়।

৮ মার্চ ২০১৮ ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার জন গোমেজ দীর্ঘদিন রোগভোগের পর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । অসুস্থ থাকার কারনে দীর্ঘদিন কর্মহীন ছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া কোন অর্থ না থাকায় তার মৃত দেহ দেশে পাঠানো নিয়ে সংশয় দেখা দিলে জাপান প্রবাসীরা এগিয়ে আসেন ।

সাংবাদিক রাহমান মনি এই সংক্রান্ত একটি আবেদন জানিয়ে স্থানীয় পোর্টাল কমিউনিটি স্কাইনেট এ সংবাদ প্রকাশ করলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই অর্থ সংগৃহীত হয়ে যায় ।

সব কিছু ভালোভাবে সমাধান শেষে গত ২১ মার্চ তার শবদেহ বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয় তার পরিবারের কাছে । ঢাকায় তাকে দাফন করা হয় ধর্মীয় আচার পালন শেষে ।

জন গোমেজ ছিলেন খ্রিষ্টান ধর্মালম্বী , সাহায্যের আবেদন জানান রাহমান মনি । তিনি একজন ইসলাম ধর্মালম্বী। অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা বিমান কুমার পোদ্দার একজন হিন্দু ধর্মালম্বী। পুলিশ এবং হাসপাতাল এর সাথে লিয়াজো করেছেন ফজলুল হক রতন , তিনিও ইসলাম ধর্মালম্বী। আর সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন সকল ধর্মালম্বীরা । সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এর চেয়ে বড় উদাহরন আর কি-ই বা হতে পারে ?

আর এখানেই মানবতার পরিচয় । বলা যেতে পারে মানুষ মানুষের জন্য ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *