পদ্মার অবৈধ বাঁধে এখনও চলছে যান, টোল আদায়

দ্রুত অপসারণে হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও মুন্সীগঞ্জের শিলই ইউনিয়নের পূর্ব রাখী গ্রাম-সংলগ্ন পদ্মা নদীতে নির্মিত অবৈধ বাঁধে এখনও ট্রলি, মাহেন্দ্র গাড়িসহ যানবাহন পারাপারে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি টোল আদায় করা থেকে বিরত থাকতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেওয়ার ছয় দিন অতিবাহিত হলেও গতকাল মঙ্গলবারও হাজার হাজার টাকা টোল আদায় করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলটি।

অন্যদিকে পদ্মায় নির্মিত বাঁধ দ্রুত অপসারণের নির্দেশ ও টোল আদায় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়নে সংশ্নিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আজ বুধবার এলাকায় গিয়ে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে বাঁধ নির্মাণে জড়িতদের বলা হবে বলে জানিয়েছেন শিলই ইউপি চেয়ারম্যান। এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশের কাগজপত্র ২৫ মার্চ পৌঁছানোর পর প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে বলে সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।

বাহেরটেক এলাকার বাবু মোল্লা জানিয়েছেন, এখনও ট্রলি ও মাহেন্দ্রে বহন করা আলুর বস্তাপ্রতি ২০ টাকা হারে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত টোল দিতে হচ্ছে। বর্তমানে টোল আদায়ের দায়িত্ব পালন করছেন ইউপি চেয়ারম্যানে ভাতিজা জয় বেপারী ও তার সহযোগীরা। হাইকোর্টের নির্দেশের পর কৌশল অবলম্বন করে এখন নির্মিত বাঁধের অদূরে স্থানীয় গোলাম হোসেনের বাগানবাড়িতে আড়ালে অবস্থান নিয়ে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে টোলের টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সদরের ইউএনও সুরাইয়া জাহান মঙ্গলবার বিকেলে দাবি করেন, হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে পদ্মায় নির্মিত বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। আর ২৫ মার্চ হাইকোর্টের নির্দেশনার কাগজ পেয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। শিলই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম লিটন জানিয়েছেন, আজ বুধবার এলাকায় গিয়ে তিনি আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে বাঁধ ভেঙে ফেলতে সংশ্নিষ্টদের বলবেন। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বাঁধ অপসারণ করা হবে।

গত ২২ মার্চ সমকালের প্রথম পাতায় পদ্মায় নির্মিত অবৈধ বাঁধের ছবি ও দ্বিতীয় পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে আইনজীবী মুন্সী মনিরুজ্জামান আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এতে পদ্মা নদীতে নির্মিত বাঁধ দ্রুত অপসারণ করা এবং টোল আদায় থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পদ্মায় বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ ও টোল আদায় কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ২২ মার্চ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সরকারের সংশ্নিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা ইউএনও, শিলই ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্নিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন আদালত।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *