সরকারী কর্মচারীকে মারধর, আটক-১

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার গত দুই দিন ধরে দফায় দফায় সন্ত্রাসীদের মহড়ার পর নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারীকে হত্যার হুমকি ও দুই দফা মারধর করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের পর জামান (২২) নামে এক জনকে আটক করেছে পুলিশ।

হামলায় আহত অফিস সহকারীর ফরিদা ইয়াসমিন (৪০)। কর্তৃপক্ষের কর্মবন্টন অনুযায়ী হাট-বাজার ও খেয়াঘাট সংক্রান্ত নথীর দায়ভার তার উপর ন্যস্ত।

হামলায় আহত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন জানান, গজারিয়া উপজেলাধীন সকল হাট-বাজার ও খেয়াঘাট ইজারা প্রদানের লক্ষে দরপত্র আহবান করা হয় এবং প্রথমধাপে গত ১১ মার্চ হাট-বাজার ও খেয়াঘাট ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে দরপত্র গ্রহণ ও খোলা হয়। তবে সেদিন চর রজমানবেগ খেয়াঘাট ঘাটের জন্য চারটি দরপত্র জমা পরে তবে বিধি মোতাবেক গ্রহণযোগ্য দরপত্র না পাওয়ায় আবার ২য় বারের মত দরপত্র আহবান করা হয় এবং ১৯ মার্চ দরপত্র গ্রহণ ও খোলা হয়।

তবে ইজারার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো সিন্ধান্ত গ্রহণ করেনি। তবে ২য় ধাপে দরপত্র দাখিলে ব্যর্থ হয়ে গত ২০ মার্চ বিকেলে ইমামপুর গ্রামের মৃত মহসীন খানের ছেলে মাহফুজ খান (৩৫) ও তার ১০/১৫জন সহযোগী নিয়ে তার অফিসে উপস্থিত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে তবে এসময় তিনি অফিসে না থাকায় তাকে মুঠোফোনে কল করে হত্যার হুকমি দেয় অজ্ঞাত একজন। বিষয়টি সহকর্মীদের কাছ থেকে জ্ঞাত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান তিনি।

এ ঘটনার পরদিন ২১ মার্চ সকালে মাহফুজ খান ও মাহফুজ খানসহ স্থানীয় ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী তার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে সন্ত্রাসীরা। তার মাথা লক্ষ্য করে কাচের তেরী পেপার ওয়েটও ছুড়ে মারে সন্ত্রাসীরা। পরে তার আত্নচিৎকারে আশপাশের কক্ষ থেকে লোকজন ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর থেকে তাকে মুঠো ফোনে একের পর এক হুকমি দিতে থাকে সন্ত্রাসীরা। তিনি থানায় মামলা করবেন জানালে আবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মহড়া দিয়ে সন্ত্রাসীরা উপজেলায় আসে এবং তার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে হুমকি প্রদর্শন করে। এঘটনার পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে জ্ঞাত করে বৃহস্পতিবার সকালে গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে অভিযোগ দায়েরের পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে জামান (২২) নামে এক জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় দোষীদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় যে ই জড়িত থাকুক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি ইতিমধ্যে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এঘটনার নিন্দা জানিয়েছে গজারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা বলেন, উপজেলা পরিষদের মত জায়গায় সন্ত্রাসীদের অবাধ বিচরণ জননিরাপত্তার জন্য হুকমি। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।

বিডি২৪লাইভ/এমআরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *