অর্ধেক আসনেই ভোটার সংখ্যায় ভারসাম্য নেই

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পুনর্বিন্যস্ত নির্বাচনী এলাকার যে খসড়া নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেছে, সেখানে অর্ধেক আসনেই জনসংখ্যা বা ভোটার সংখ্যায় ভারসাম্য থাকেনি।

নতুন আসন বিন্যাসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোটার রযেছে ঝালকাঠি-১ আসনে। সেখানে এক লাখ ৭৬ হাজার ৯৫৮ জন ভোটার রয়েছেন।

আর সবচেয়ে বেশি ভোটার গাজীপুর-৫ আসনে। সেখানে এখন ভোটার ছয় লাখ ৬৯ হাজার ৬৬১ জন, যদিও পাঁচ বছর আগে সেখানে ভোটার ছিল দুই লাখ ৮৯ হাজার ৬৮ জন।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, জেলাভিত্তিক আসন সংখ্যা ঠিক রাখতে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নিধারণে তারা জেলার আসনওয়ারি গড় জনসংখ্যা আমলে নিয়েছেন।

প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে ৩০০ আসনে ভোটার প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ। সেক্ষেত্রে প্রতি আসনে গড় জনসংখ্যা হয় ৫ লাখ ৩৩ হাজারের মত। আর আসন প্রতি গড় ভোটার হয় ৩ লাখ ৪৭ হাজার।

কিন্তু নতুন যে বিন্যাস এসেছে, সেখানে গড়ে তিন থেকে চার লাখ ভোটার আছেন ১৫৩টি আসনে। ৮২টি আসনে ভোটার সংখ্যা এক থেকে তিন লাখের মধ্যে। আর চার থেকে সাত লাখ ভোটার আছে ৬৫টি আসনে।

এক থেকে দুই লাখ ভোটার

ঝালকাঠি-১ (১,৭৬,৯৮৫); যশোর-৬ (১,৯৩,৫৬২); পিরোজপুর-৩ (১,৮৮,৯৬২)

দুই থেকে তিন লাখ ভোটার

ঠাকুরগাঁও-২; নীলফামারী-৩; লালমনিরহাট-৩; রংপুর-১, ৬; কুড়িগ্রাম-৪; বগুড়া-২, ৩; নওগাঁ-৪, ৬; রাজশাহী-৪, ৬; নাটোর-৩; পাবনা-১; মেহেরপুর-১, ২; ঝিনাইদহ-১,৪; মাগুরা-২; নড়াইল-১; বাগেরহাট-২, ৩, ৪; খুলনা-১, ২,৩; বরগুনা-২; পটুয়াখালী-২, ৩, ৪; ভোলা-২, ৩; বরিশাল-১, ৩, ৬; ঝালকাঠি-২; পিরোজপুর-২; জামালপুর-২, ৪; ময়মনসিংহ-৩, ৮, ৯, ১১; নেত্রকোনা-৪, ৫; কিশোরগঞ্জ-৫; মুন্সীগঞ্জ-২; ঢাকা-৪, ৬, ৮; গাজীপুর-৪; নরসিংদী-২, ৩; নারায়ণগঞ্জ-২; গোপালগঞ্জ-৩; মাদারীপুর-১, ৩; শরীয়তপুর-১, ৩; সুনামগঞ্জ-২, ৩, ৪; সিলেট-২; মৌলভীবাজার-২; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, ৬; কুমিল্লা-২, ৭, ৮; চাঁদপুর-১; নোয়াখালী-২, ৬; লক্ষ্মীপুর-১; চট্টগ্রাম-৩, ৬, ৭, ১২; বান্দরবান; কক্সবাজার-৪।

তিন থেকে চার লাখ ভোটার

পঞ্চগড়-১, ২; ঠাকুরগাঁও-৩; দিনাজপুর-১, ২, ৩, ৪, ৫; নীলফামারী-১, ২, ৪; লালমনিরহাট-১, ২; রংপুর- ২, ৫; কুড়িগ্রাম-৩; গাইবান্ধা-১, ২, ৪, ৫; জয়পুরহাট-১, ২; বগুড়া-১, ৪, ৬; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, ৩; নওগাঁ-২, ৩, ৫; রাজশাহী-১, ২, ৩, ৫; নাটোর-১, ২, ৪; সিরাজগঞ্জ-১, ২, ৩, ৪, ৫; পাবনা-৪; কুষ্টিয়া-১, ২,৩, ৪; ঝিনাইদহ ২, ৩; যশোর-১, ২, ৪, ৫; নড়াইল-২; বাগেরহাট-১; খুলনা-৪, ৫, ৬; সাতক্ষীরা-২, ৩; পটুয়াখালী-১; ভোলা-১, ৪; বরিশাল-২, ৪, ৫; টাঙ্গাইল-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮; জামালপুর-১; শেরপুর-১, ২,৩; ময়মনসিংহ-১, ৫, ৬, ৭, ১০; নেত্রকোণা-১, ২, ৩; কিশোরগঞ্জ-৩, ৪, ৬; মানিকগঞ্জ-১, ৩; ঢাকা-৩, ১০, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ২০; গাজীপুর-২; নরসিংদী-১, ৪, ৫; নারায়ণগঞ্জ-১, ৩; রাজবাড়ী-১; ফরিদপুর-২; ফরিদপুর-৩; ফরিদপুর-৪; গোপালগঞ্জ-১, ২; মাদারীপুর-২; শরীয়তপুর-২; সুনামগঞ্জ-১; সিলেট-৩, ৪, ৫, ৬; মৌলভীবাজার-১, ৩, ৪; হবিগঞ্জ-১, ২, ৩; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ৪, ৫; কুমিল্লা-১, ৩, ৪, ৫, ৯, ১১; চাঁদপুর-২, ৪; ফেনী-১, ২, ৩; নোয়াখালী-১, ৩, ৫; লক্ষ্মীপুর-২, ৩, ৪; চট্টগ্রাম-১, ২, ৪, ৯, ১৩; চট্টগ্রাম-১৪; চট্টগ্রাম-১৫; চট্টগ্রাম-১৬; কক্সবাজার-১; কক্সবাজার-২; কক্সবাজার-৩।

চার থেকে পাঁচ লাখ ভোটার

ঠাকুরগাঁও-১; দিনাজপুর-৬; রংপুর-৩, ৪; কুড়িগ্রাম-১, ২; গাইবান্ধা-৩; বগুড়া-৫, ৭; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১; নওগাঁ-১; সিরাজগঞ্জ-৬; পাবনা-২, ৩; পাবনা-৫, চুয়াডাঙ্গা-১, ২; ঝিনাইদহ-২; মাগুরা-১; সাতক্ষীরা-১, ৪; বরগুনা-১; পিরোজপুর-১; জামালপুর-৩, ৫; ময়মনসিংহ-২; কিশোরগঞ্জ-১, ২; মানিকগঞ্জ-২; মুন্সীগঞ্জ-১, ৩; ঢাকা-১, ৫, ৭, ৯, ১১, ১৬, ১৭, ১৯; গাজীপুর-৩; নারায়ণগঞ্জ-৫; রাজবাড়ী-২; ফরিদপুর-১; সুনামগঞ্জ-৫; হবিগঞ্জ-৪; কুমিল্লা-৬; চাঁদপুর-৩, ৫; চট্টগ্রাম-৫, ৮, ১০; রাঙ্গামাটি; খাগড়াছড়ি।

পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ ভোটার

যশোর-৩ (৫,২৪,০৭৫ দশম); ময়মনসিংহ-৪ (৫,৫৭,৮৪১); ঢাকা-২ (৫,৩৮,২৭০); ঢাকা-১৮ (৫,৬০,৮৩২); সিলেট-১ (৫,৪৩,৮৫৯); ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (৫,১৪,০৪৩); কুমিল্লা-১০ (৫,৭৪,৩০৯), নোয়াখালী-৪ (৫,৪৩,৪৮৩); চট্টগ্রাম-১১ (৫,১৪,৬৮৩)।

ছয় থেকে সাত লাখ

নারায়ণগঞ্জ-৪ (৬,৫৬,৭৭১); গাজীপুর-১ (৬,৬৯,৩৩০), গাজীপুর-৫ (৬,৬৯,৬৬১)।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য এই খসড়া তৈরিতে ১৬ জেলার ৩৮টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন এসেছে। প্রস্তাবিত ৩৮টি আসনে উপজেলার অখণ্ডতা, প্রশাসনিক এলাকা ও বিলুপ্ত ছিটমহল যোগ করা হয়েছে।

আর ২৬২টি আসনের ক্ষেত্রে দশম সংসদের সীমানেই বহাল রয়েছে। সেক্ষেত্রে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আসন সীমানায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

পুনর্গঠিত নির্বাচনী এলাকা

নীলফামারী ৩ ও ৪; রংপুর ১, ৩, ৪; কুড়িগ্রাম ৩, ৪; পাবনা ১, ২; মাগুরা ১, ২; খুলনা ৩, ৪; সাতক্ষীরা ৩, ৪; জামালপুর ৪, ৫; ঢাকা ২, ৩, ৭, ১৪, ১৯; নারায়ণগঞ্জ ৪, ৫; শরীয়তপুর ২, ৩; মৌলভীবাজার২, ৪; ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫, ৬; কুমিল্লা ১, ২, ৬, ১০; নোয়াখালী ৪, ৫ এবং চট্টগ্রাম ৭, ৮ আসন।

২০১১ সালে সর্বশেষ পঞ্চম আদমশুমারি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিদ্যমান অধ্যাদেশ অনুযায়ী জনসংখ্যার যথাসম্ভব সমতা রেখে দশম সংসদ নির্বাচনে আদমশুমারি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসন বিন্যাস করা হয়। পরবর্তী আদমশুমারির প্রতিবেদন হবে ২০২১ সালে।

২০০১ সালের নির্বাচনের সময় ১৯৯৫ সালের সীমানার গেজেট বহাল রাখা হয়েছিল। তবে ১৯৮৪, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালে ১৩৩ সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। দশম সংসদে ছয়টি নীতিমালা অনুসরণ করে ৫০টি আসনে ছোটখাটো পরিবর্তন করে আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়।

১৫ মার্চ ৩০০ আসনের খসড়া প্রকাশ করে ইসির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- বিদ্যমান অধ্যাদেশের আলোকে সীমানা পুননির্ধারণে ছয় নীতি অবলম্বন করা হয়েছে

এগুলো হল- জেলার বিদ্যমান মোট আসন অপরিবর্তিত রাখা, প্রশাসনিক ইউনিট, বিশেষ করে উপজেলা এবং সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড যথাসম্ভব অখণ্ড রাখা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌর এলাকার ওয়ার্ড একাধিক আসনে বিভাজন না করা, নতুন প্রশাসনিক এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা, বিদ্যমান সীমানায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের কারণে নতুন সীমানা নির্ধারণ করা এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।

ইসি সচিব জানান, খসড়া নিয়ে কোনো দাবি বা আপত্তি থাকলে ১ এপ্রিল বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। কমিশন দাবি-আপত্তির নিষ্পত্তি শেষে ৩০ এপ্রিল সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে।

বিডিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *