ঢামেক.হা : ৭২১ তে ডাক্তার নেই.! টেস্টগুলো বাহির থেকে করান

মাহবুব আলম জয়: দেশের অন্যতম চিকিৎসালয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। চিকিৎসা সেবায় সরকারের অগ্রগতি হলেও তদারকির যেন অভাবটাই বেশি। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২ টায় মাদ্রাসা পড়ুয়া ১২ বছরের ভাগনিকে শ্বাসকষ্ট সমস্যা নিয়ে ঢামেক.হা,তে ভর্তি করাই। নতুন ভবনের ৫০২ কক্ষে ১১ নং ইউনিটে দেয়া হলো। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কক্ষ ৭২১। ভর্তিরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্টার্নি চিকিৎসকগণ ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে বললেন শুক্রবার ডা: কামরুল সাহেব আসবেন। শুক্রবার কোন ডা: এমনকি ইন্টার্নি ডা. ও পাওয়া গেল না।

এদিকে ভাগনির সমস্যা বাড়তে লাগলো। আমি ভাবলাম এই ইউনিটে যেহেতু এত সমস্যা ডা. নেই তো অন্য ইউনিটে নিবো। আমি মানব দরদী ঢামেক. হাসপাতাল শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডা. আবু ইউসুফ ফকির সাহেবের সহযোগীতা নেই। তার সাথে মুন্সীগঞ্জে মানবাধিকার কমিশন সংগঠনে কাজ করি। তাকে শনিবার কয়েকবার কল দিলাম, তিনি সব তথ্য নিয়ে বললেন একজন ডা. এর সাথে দেকা করতে কিন্ত পর পর দুদিন সেই চিকিৎসকের দেখা পাওয়া গেল না। পরে রাতে কয়েক মিনিটের জন্য রাউন্ডে এলেন ইউনিটে দায়িত্বরত ডা. কামরুল হাসান। তিনি ৭ টি টেস্ট দিয়ে বললেন এগুলো পপুলার থেকে করায়ে আনুন হাসপাতালের করালে ভালো হবে না। আমি অত:পর হাসপাতাল থেকেই টেস্টগুলো করালাম।

রবিবার দিন সময় হওয়ার হওয়ার পর সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে রোগীকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি আনবো তবুও কোন কতর্ব্যরত ডা. এর দেকা পেলাম না। নার্সদের জিগাসা করলাম চারদিনের মত সেই বক্তব্যে কারা জানালো ৭২১, তে ডা. নেই,কোথায় গিয়েছে জানি না। যাই হোক, অনেক কষ্টে ডা. কামরুল সাহেব আবার আসলেন কয়েক মিনিটের জন্য। তিনি রিপোর্ট দেখে একটু ক্ষেপলেন, বললেন এগুলো তো বাহির থেকে করতে বলছি। পরে আরও একটি টেস্ট দিয়ে প্রাইম ডায়াগনস্টিক এর একজনকে দেখিয়ে বললেন এটা করায়ে নিয়ে আসুন। কাল আপনাদের ছুটি দিয়ে দেবো। বাধ্য হয়ে আমাকে টেস্ট করাতে হলো। কিছুক্ষণ পরে দেখালাম প্রাইম ডায়াগনস্টিকের সেই লোকের সাথে তিনি চলে গেলেন, সারাদিন ও রাতে তাকে এই ইউনিটে তাকে এবং আর কাউকে পেলাম না।

সোমবার রোগী নিয়ে আসা হলো অন্যদিকে বেসরকারি এনজিওতে কর্মরত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আসিফ মামুদ নিয়মিত আমাকে কল দিয়ে সহযোগীতা করেছেন। ঢামেক হা. এর ডা. কামরুল হাসান টেস্ট বানিজ্য করে সাধারন মানুষের ক্ষতি করছে।অথচ ডা. আবু ইউসুফ ফকির একদিন বিশাল এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন মুন্সীগঞ্জের যে কোন রোগি ঢাকা মেডিকেল কোন প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবেন আমি সহযোগীতা করবো সেই অর্থে এবং তার সাথে সংগঠন করার সুবাদে হলেও তিনি খোঁজ নিয়ে সহায়তা করতে পারতেন। অন্যদিকে ডা. কামরুল হাসান যারা টেস্ট বানিজ্য করে মানুষ ঠকাচ্ছে তাদেরকে কিমনিটরিং করা যায় না। হায় রে চিকিৎসক কয়েকজনের নীতিহীন চিকিৎসকের জন্য সমগ্র ডাক্তাদের কত বদনাম। ধিক্কার…..!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *