ধলেশ্বরীর মাটি কেটে পুকুর ভরাটের ব্যবসা

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর তালতলা-গৌরগঞ্জ শাখা নদী ও ধলেশ্বরী নদীর তীরে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ফুলন মিয়া নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে সে নদীর তীরের মাটি কেটে নিয়ে পুকুর ভরাটের ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি নদীর তীরে থাকা কৃষকের জমির মাটিও জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় নদী তীর-সংলগ্ন জমিগুলো ভাঙনের শিকার হয়ে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এসব জমির কৃষকের কাছে ফুলন মিয়া ওরফে ফুলন মেম্বার এখন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, তালতলা-গৌরগঞ্জ শাখা নদী ও ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কাইচাইল, কুন্ডেরবাজার, শিলিমপুর, তস্তিপুর, বালিগাঁও ও বেতকা এলাকায় একাধিক ড্রেজার দিয়ে বালুমাটি কাটা হচ্ছে। আর সেই বালু মাটি দিয়ে বিভিন্ন জমি ও ডোবা ভরাট করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ফুলন মিয়া।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার দালালপাড়া গ্রামের ফুলন মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ধলেশ্বরীর তীরে বালুমাটি কেটে নিয়ে

যাচ্ছে। এমনকি তীর-সংলগ্ন কৃষকের জমির মাটিও কেটে নিয়ে যায় জোর করে। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে ভাঙন দেখা দেওয়ায় কৃষকের জমি ও বসতবাড়ি বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফুলন মিয়ার একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী তৎপর থাকায় ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর বেতকা ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদী-সংলগ্ন ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া জমির মাটি কেটে বিক্রি করে ফেলেন ফুলন মিয়া। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ওই মাটি বিক্রি করলেও অভিযোগ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নদীতীরের মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে ফুলন মিয়া।

রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার কাইচাইল গ্রামের

পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তালতলা-গৌরগঞ্জ শাখা নদীতে মাটি কেটে পাইপ দিয়ে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। এতে ওই গ্রামের কৃষকের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া একাধিক স্থানে তার ড্রেজার চলছে বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গ্রামবাসী ও ড্রেজার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাটি কাটার নেতৃত্ব দিলেও ফুলন মেম্বার ঘটনাস্থলে না গিয়ে নিজস্ব লোকজন দিয়েই ব্যবসা করে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক মেম্বার ফুলন মিয়া জানান, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে। তিনি কোনো অনিয়ম করছেন না। তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালতলা-গৌরগঞ্জ শাখা নদীতে মাটি কাটার কোনো অনুমতি নেই।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কাবিরুল ইসলাম খান বলেন, মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ফুলন মিয়াকে বিআইডব্লিউটিএর অনুমতির কাগজপত্র দেখাতে একাধিকবার তাগিদ দিলেও তিনি যোগাযোগ করেননি। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে তার অনুলিপি পাঠিয়ে সংশ্নিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করার বিধান রয়েছে। তবে অফিসিয়ালি কোনো কাগজপত্র তিনি পাননি বলেও জানান।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *