মুন্সীগঞ্জে অপহরণ-গুম ঘটনার সেই আলোচিত সোর্স আল-আমিন গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স ও গুম-অপহরণ মামলার আসামি আল-আমিন মাদবরকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শেরপুর সদরের কালীবাড়ী থেকে আটকের পর শনিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানায় আল-আমিন মাদবরকে আনা হয়েছে। আল-আমিনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানায় অস্ত্র, অপহরণসহ ৫টি ও ঢাকার পল্টন থানায় ১টি মামলা রয়েছে।

আল-আমিন টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের মুলচর গ্রামের শাহজাহান মাদবরের ছেলে।

সবশেষ গত ২৫ শে ফেব্রুয়ারি টঙ্গিবাড়ীর কামারখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদারের ছোট ভাই হরগঙ্গা কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অনিক হালদারকে র‌্যাব-১১ আটক করে।

সকালে আটকের পর দিনভর নির্যাতনের অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, অনিককে বিকেল ৫টায় একটি পিস্তল দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। আর এই ঘটনার জন্য চেয়ারম্যান দায়ি করেন সোর্স আল-আমিনকে। এরপর থেকেই ব্যাপক আলোচনায় আসে সোর্স আল-আমিন।

তবে, র‌্যাব-১১ সিপিসি-১, মুন্সীগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পরিচালক মো. নাহিদ হাসান জনি জানিয়েছিলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনিককে তারা আটক করেন।

মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাকহাটি গ্রামের লায়ন ফজলুল হক জানিয়েছেন, গত দুই বছর আগে আল-আমিন তাকে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ক্রস ফায়ার দেয়ার হুমকি দেয়। এরপর সে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মেদ-এর সঙ্গে সরাসরি দেখা করে আল-আমিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর র‌্যাবের মহাপরিচালকের নির্দেশে উইং কমান্ডার আজাদ মুন্সীগঞ্জে তদন্তে এসে আল-আমিন সর্ম্পকে বিভিন্ন অপরাধমূলক তথ্য পান। এরপরই আল-আমিন কিছুদিনের জন্য আত্মগোপনে চলে যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০১২-১৩ সালে মুন্সীগঞ্জের আধারা-বাংলাবাজারের সোহেল মিজি, ২০১৪ সালে টঙ্গিবাড়ীর যশলংয়ের চাপ গ্রামের উজ্জলকে অপহরণ করে, গুম করা হয়। তাদের সন্ধান আজও পাননি স্বজনরা। উজ্জল অপহরণ-গুমের ঘটনায় আল-আমিনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে টঙ্গিবাড়ী থানায়।

এছাড়াও মধ্য মাকহাটি গ্রামের ছানা মাঝি, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জগলুল হালদার ভুতুর চাচাতো ভাই আনিস হালদারকে ঢাকার কলাবাগান এলাকা থেকে এবং গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি মোল্লাকান্দির মহেশপুরের জাহাঙ্গীর সরকারকে বিদেশি পিস্তল, শর্টগান, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ র‌্যাব গ্রেফতার করে। এছাড়াও পূর্ব মাকহাটি গ্রামের আইজ্জল মোল্লার বাড়িঘর ভাঙচুর ও তছনছ করে ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এর সবই হয়েছে আল-আমিনের সহায়তায়। এছাড়া, বছরখানেক আগে আল-আমিন ঢাকার যাত্রাবাড়ি এবং কিছুদিন আগে অস্ত্রসহ মুন্সীগঞ্জে আটক হয়েছিল।

ঘটনা ঘটনানোর পরই আল-আমিন মালয়েশিয়ায় চলে যায়। সেখানেও অবৈধ বাংলাদেশিদের নানাভাবে হয়রানি এবং অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে আল-আমিনের বিরুদ্ধে। মালয়েশিয়ায় আল-আমিনের বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে একাধিক।

স্থানীয়রা জানান, এলাকায় বিরোধমান দুই পক্ষের বিরোধকে কাজে লাগিয়ে সোর্স হিসেবে পরিচিত আল-আমিন একপক্ষের সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকা চুক্তি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে আসছে। এ ক্ষেত্রে অপরাধীদের টার্গেট নিয়েই কাজ করে আসছে আল-আমিন। মাঝেমধ্যে নিরীহদেরও হয়রানি এবং ফাঁসিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটায় আলোচনায় আসে আল-আমিনের নাম।

টঙ্গিবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান জানিয়েছেন, অপরাধের সাথে যুক্ত হওয়ার পরপরই আল-আমিন আত্মগোপনে চলে যেতো। তাকে দীর্ঘদিন ধরে আটকের চেষ্টা চলছিল। আল-আমিন নিজেকে সোর্স হিসেবে পরিচয় দেয়। সোর্স কিনা জানি না, তবে সে চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ী। আল-আমিনের হেফাজতে একাধিক অস্ত্র আছে, তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

সোর্স আল-আমিন জানায়, তিনি ভালো লোকদের হয়রানি করেননি। এ পর্যন্ত যাদের গ্রেফতারের সহায়তায় করা হয়েছে তারা সবাই অপরাধী। অস্ত্রসহ আসামি ধরিয়ে দেয়ার বকশিস হিসেবে তিনি ১০ হাজার টাকা করে পেতেন।

অবজারভার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *