সিরাজদিখানে ৩২টি কমিউনিটি ক্লিনিক ৪৭ দিন বন্ধ

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত
মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে ২০ জানুয়ারি থেকে কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিদের লাগাতার আন্দোলনে উপজেলার ৩২টি ক্লিনিক প্রায় মাসাধিককাল থেকে বন্ধ থাকায় প্রায় লক্ষাধিক গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়েছে। উপজেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার এ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ৩২টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম চালু করায় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী সহজেই স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছিল।

এদিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০ জানুয়ারি থেকে ঢাকায় আন্দোলন শুরু করে। তাদের আন্দোলনের কারণে সারা দেশের মতো সিরাজদিখানেও ৩২টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রায় মাসব্যাপী বন্ধ থাকায় ভেঙে পড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকায় ছুটছে উপজেলা সদর হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. দুলাল হোসেন জানান, সিএইচসিপিরা আন্দোলনে থাকায় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাঘাত ঘটায় উপজেলা সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবারকল্যাণ সহকারী দিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো চালানো হচ্ছে। এদিকে কাকালদী, তাজপুর ও জৈনসার, মালখানগর, লতব্দী, রাজানগর, শেখরনগর, রশুনিয়া ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলে কোথাও স্বাস্থ্য সহকারী বা পরিবারকল্যাণ সহকারীদের পাওয়া যায়নি।

কাকালদী গ্রামবাসী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মধ্যপাড়া ইউনিয়নের কাকালদী কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সেবাবঞ্চিত হচ্ছে এই এলাকার গরিবরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনের কারণে ওষুধ না পেয়ে সেবাবঞ্চিত হচ্ছি আমরা। এলাকাবাসী জানান, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) আন্দোলনে যাওয়ার পর ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবারকল্যাণ সহকারীরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করায় এলাকারবাসী সদর হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভিড় জমাচ্ছে।

সিএইচসিপি দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য নাদিয়া জাহান সমাপ্তি বলেন, চাকরি রাজস্বকরণ করা হবে এমন আশায় থেকে থেকে আমাদের অনেকের সরকারি চাকরির বয়স শেষ গেছে, অনেকের শেষের পথে। আমাদের প্রায় ১৪ হাজার সিএইচসিপি ও আমাদের পরিবার এখন হতাশায় নিমজ্জিত। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে ২০ জানুয়ারি থেকে সব ধরনের অনলাইন রিপোর্টিং এবং হার্ডকপি সরবরাহ করা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *