মুন্সীগঞ্জে দেশের প্রথম পতাকা ভাস্কর্যের কাজ শুরু

জেলা শহরে দেশের প্রথম পতাকা ভাস্কর্য হতে যাচ্ছে। পতাকা-৭১ নামে এই পতাকা ভাস্কর্যের কাজ শুরু হওয়ায় মুন্সীগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও আপামর মানুষ এখন বেশ উচ্ছ্বসিত। যেই পতাকার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধ, সেই পতাকারই দেশের প্রথম ভাস্কর্য হতে যাচ্ছে। তাই ভাস্কর্যকে ঘিরে এখানে মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে বিশেষ কৌতুহল বিরাজ করছে। মুন্সীগঞ্জ শহরের উপজেলা ভূমি অফিসের বিপরীতে এই কর্মযজ্ঞ দেখার জন্য মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র লিচুতলা এলাকায় দেশের প্রথম পতাকা ভাস্কর্য পতাকা-৭১ এর স্থান লে-আউট করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী বেইজমেন্ট কাজ চলছে। বেইজমেন্টের সঙ্গে সঙ্গে ভাস্কর্যটির মোল্ড তৈরি হচ্ছে পুরনো ঢাকায়। মুন্সীগঞ্জ শহরের লিচুতলা এলাকার উপজেলা ভূমি অফিসের বিপরীতে এই কর্মযজ্ঞ দেখার জন্য প্রতিদিনই মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

মুক্তিযোদ্ধা, নাট্যকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছেন, এই ভাস্কর্য দেখে আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে। পতাকার প্রতি সম্মান ও দেশকে ভালোবাসতে শিখবে দেশের মানুষ। সরকারের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই জেলা প্রশাসকের নিজ উদ্যোগে পতাকা ভাস্কর্য পতাকা-৭১ নির্মিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই ভাস্কর্য নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছেন জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা।

ভাস্কর্য গবেষক আলমগীর টুলু জানান, মুন্সীগঞ্জে জেলা প্রশাসকে উদ্যোগে আমরা এই পতাকা ভাস্কর্যটি নিয়ে কাজ করছি। পতাকার ধারণাটি আমরা তার থেকে পেয়ে থাকি। এটি নির্মাণে ২৩ জন্য সদস্য নিয়ে একটি টীম গঠন করা হয়। সদস্যবৃন্দরা দেশ, জাতি, ইতিহাস, স্বাধীনতার বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। পতাকা নিয়ে যখন গবেষণা শুরু করে তখন বাংলাদেশের ইতিহাস ঘাটতে হয়েছে। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু যখন এদেশের জনসাধাণের চোখের মণিতে পরিণত হয়েছিলেন, তখন আসলে একটি জাতিসত্তা দাঁড়িয়ে গেছে। এই জাতিসত্তা কারো কাছে মাথা নত করবে না। তার পর থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত দ্রুতগতিতে রাজনীতির ইতিহাসে একটি পরিবর্তন ঘটে। মুন্সীগঞ্জের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। ২ মার্চ যেই মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আ স ম আব্দুর রব প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন, তিনি মুন্সীগঞ্জের একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। ভাস্কর্যের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ধরে রাখতে মুন্সীগঞ্জ ভূমিকা রাখবে।

ভাস্কর্য শিল্পী রুপম রায়, পতাকা নিয়ে এই রকম আগে কখনো কোথাও হয়নি। পতাকা নিয়ে সারাদেশে এটিই প্রথম। পতাকার একটি মডেল তৈরি করে আমরা কাজ এগিয়ে যেতে থাকি। এমন কিছু আমরা সৃষ্টি করতে যাচ্ছি তার সঙ্গে আমরা সারা জীবন জড়িত। বাংলাদেশের অন্যতম একটি ভাস্কর্য হবে এটা। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি যেমন মানুষ ফুল দিতে যায় শহীদ মিনারে তেমনি বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে যায় স্মৃতিসৌধে, পতাকা দিবসে সবাই আসবে পতাকা দিবস পালন করতে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। সেই লক্ষ্যে বাস্তবায়নে আমরা মুন্সীগঞ্জে পতাকা ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও তরুণদের মাঝে দেশত্ববোধ জাগ্রত করতে জাতীয় পতাকাকে বেছে নেওয়া হয়। জাতীয় পতাকার মাধ্যমে আমাদের দেশত্ববোধ জাগ্রত হয়। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে পরিকল্পনা শুরু করা হয়। মুন্সীগঞ্জে যেই পতাকা ভাস্কর্যটি হচ্ছে সেটি মুক্তিযুদ্ধের সময় যোদ্ধরা যেই পতাকা নিয়ে যুদ্ধ করেছিল সেই বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মারক ধারণ করবে এটি। মুন্সীগঞ্জ শহরে তেমন কোনো ভাস্কর্য নেই, এই পতাকার মাধ্যমে জেলাটি বাংলাদেশের কাছে পরিচিতি পাবে। বঙ্গবন্ধু যেই ছইয় দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সনদ হিসাবে সেই ছয় দফাকেও এই পতাকা ভাস্কর্যের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ছয়টি হাত ছয় দফা দাবীর একটি প্রতীক।

পতাকা ভাস্কর্যের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কারিগররা জানান, ২৮ জানুয়ারি শুরু এই ভাস্কর্যের নির্মাণের কাজ। ঢালাই থেকে শুরু করে সবকিছু মিলিয়ে ১০-১২ দিন সময় লাগবে এরপর ৫-৭ দিন। ৩০ ফেব্রুয়ারি এই কাজটি শেষ করে দিতে হবে। আরো বাড়তি সময় লাগে এসব ভাস্কর্য নির্মাণে তবে আমরা রাত দিন কাজ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, ভাস্কর্যটি নির্মিত হলে মুন্সীগঞ্জের নাম সারা বাংলাদেশের কাছে মর্যাদার সঙ্গে পরিচিত হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং স্বাধীনতা তরুণদের কাছে পৌঁছে দিতে এটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে, আগামী ২ মার্চ পতাকা দিবসে মুন্সীগঞ্জের দেশের প্রথম পতাকা ভাস্কর্য ‘পতাকা-’৭১’-এর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

সোনালীনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *