জাপানে মহান ভাষাশহীদ দিবস পালিত

হাসিনা বেগম রেখা: গভীর ভালোবাসা এবং বিনম্র ফুলেল শ্রদ্ধায় জাপান প্রবাসীরা স্মরণ করেছেন জাতির বীর, শ্রেষ্ঠ সন্তানদের- যারা ভাষার স্বীকৃতি আদায়ে অকাতরে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিলেন। প্রবাসীদের সাথে প্রভাতফেরিতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, দূতাবাস কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রশাসন তোশিমা সিটি

করপোরেশনের প্রতিনিধি ডেপুটি মেয়র মিযুশিমা মাসাহিকো এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

২১ ফেব্রুয়ারি বুধবার জাপানে সাপ্তাহিক কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে প্রবাসীরা হাজির হয়েছিলেন ইকেবুকুরো শহরে নির্মিত স্থায়ী শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। পূর্বসুরিদের প্রতি শ্রদ্ধা কৃতজ্ঞতা এবং দায়বদ্ধতা থেকে টোকিও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছিলেন সর্বস্তরের প্রবাসী।

সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত এবং তোশিমা সিটি কর্তৃপক্ষের পূর্ব ঘোষিত ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর কথা থাকলেও সকাল ৬টার আগেই দূর-দূরান্ত থেকে পুষ্পস্তবক এবং ব্যানার নিয়ে প্রবাসীরা হাজির হতে শুরু করেন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।

সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রদূত এবং তোশিমা সিটি ডেপুটি মেয়র মাসাহিকো মিযুশিমা শহীদ মিনার চত্বরে হাজির হন। প্রথম তাদের মধ্যে বিভিন্ন কুশল বিনিময়ের পর নির্দিষ্ট সময়ে শহীদ মিনার বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দাঁড়িয়ে নীরবে শ্রদ্ধা জানান।

এই সময় খন্দকার ফজলুল হক রতনের কণ্ঠের সাথে সুর মিলিয়ে উপস্থিত সকলে সমবেতভাবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি পরিবেশন করেন।

রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধার পর জাপান প্রবাসীদের প্রথা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ, জাপান শাখা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে। দলটির নেতৃত্ব দেন সভাপতি সালেহ মো. আরিফ এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হিরা।

এরপর অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দলটির নেতৃত্ব দেন সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা।

এরপর জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, ধর্মীয়, শিশু সংগঠন, আঞ্চলিক সংগঠনসমূহ, এনআরবি এবং পেশাজীবী সংগঠন পক্ষ থেকে একে একে ফুলেল শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হয়। বণিক সমিতির সভাপতি (বিসিসিআইজে) বাদল চাকলাদার ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করেন।

বরাবরের মতো মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান এবারও সবচেয়ে বড় পুষ্পস্তবক অর্পণ করে হৃদয়ের শ্রদ্ধা জানায়। অনেকে আবার ব্যক্তিগতভাবে এবং কিছুসংখ্যক জাপানি সুহৃদরাও ফুলের শ্রদ্ধা জানান। জাপান-বাংলা উভয় দেশের বেশকিছু শিশু ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়- যা পূর্বসূরিদের প্রতি দায়বদ্ধতার বহিরপ্রকাশ।

প্রতিবছরের মতো এবার ও পরিচালনায় ছিলেন জুয়েল আহসান কামরুল।

রাষ্ট্রদূত দূতাবাস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, ভাষা শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন, তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও বাংলাদেশের উত্তরোত্তর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং দিবসটির তাৎপর্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ, রাষ্ট্রদূত শুভেচ্ছা বক্তব্য সমবেত কণ্ঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গান পরিবেশন, ভাষা আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, মহান শহীদ দিবস এর ইতিহাস এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কো করতিক প্রচারিত ভিডিও প্রদর্শন এবং সবশেষে চা-চক্রের মধ্যদিয়ে দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা শেষ হয়।

জাপানে অন্যান্য বড় বড় শহরগুলোতে এবং বিদেশি ছাত্র বিশেষ করে বাংলাদেশি ছাত্র অধ্যুষিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়।

ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *