পদ্মা মেঘনায় ডাকাতের অবাধ বিচরণ

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: মুন্সীগঞ্জ সদর, গজারিয়া, মতলব ও চাঁদপুর সদর উপজেলার সীমানায় মেঘনা ও পদ্মা নদী অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। প্রায়ই নৌ-ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক হাজার নৌযান এ নৌরুট দিয়ে চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। আর ভয়ে জেলে,

বালুবাহী বাল্ক্কহেড, কার্গোর শ্রমিকসহ মেঘনা ও পদ্মার তীরের ৪০টি গ্রামের মানুষের রাত কাটে ডাকাত আতঙ্কে। নৌ-ডাকাতদের তাণ্ডবে নৌযান শ্রমিক, নদী তীরের মানুষ ও জেলেদের কাছে পদ্মা ও মেঘনা নদী এখন আতঙ্কের জনপদ। গত ৫ বছরে নৌ-ডাকাতি প্রতিরোধ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ কনস্টেবল আবদুল মালেক ও নৌ-ডাকাত রুবেল নিহত হয়। আহত হন বরযাত্রীসহ কয়েক শতাধিক। সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জের পদ্মার তীরে সরদারকান্দি গ্রামে পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নৌ-ডাকাত তারেক রহমান রিংকু নিহত হওয়ায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সীমানা জটিলতার অজুহাত দিয়ে সংঘটিত একাধিক ডাকাতির ঘটনায় সংশ্নিষ্ট থানায় কোনো মামলাও হয়নি। মুন্সীগঞ্জ সদর, গজারিয়া, মতলব ও চাঁদপুর সদর থানা পুলিশ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে নৌ-ডাকাতরা।

অনুসন্ধানকালে স্থানীয় গ্রামবাসী জানায়, পদ্মা ও মেঘনা নদীর মোহনার এক পাশে মতলব, মহনপুর ও চাঁদপুর এলাকা এবং অপর পাশে মুন্সীগঞ্জের বাংলাবাজার, বকচর, কালিরচর ও চরআবদুল্লাহ গ্রাম। একাধিক নৌ-ডাকাত গ্রুপ নদীতে চলাচলরত বালুবাহি বাল্ক্কহেড, তেলবাহী জাহাজ, যাত্রীবাহী লঞ্চ, স্টিমার ও নদীতে মাছ ধরার জেলেদের ট্রলারে হামলা চালিয়ে ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করে আসছে। নৌ-পুলিশ সদস্যরা নৌ-ডাকাতদের গ্রেফতারে অভিযান চালালেও সীমানা জটিলতার কারণে মাঝপথেই থেমে যায় গ্রেফতার অভিযান। গজারিয়া ও মুন্সীগঞ্জ থানার নৌপুলিশ চাঁদপুর জেলার মতলব থানার মহনপুর সীমানায় প্রবেশ করে না। আবার মতলব থানার মহনপুর নৌপুলিশ মুন্সীগঞ্জ জেলার সীমানা অতিক্রম করে না। আর এ সুযোগে ডাকাতরা পদ্মা ও মেঘনা নদীতে বেপরোয়া দীর্ঘদিন ধরেই।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৌ-ডাকাতরা দ্রুতগামী ইঞ্জিনচালিত ট্রলার আবার কখনও স্পিডবোট দিয়ে পালিয়ে যায়। মেঘনা নদীতে মতলবের মহনপুর, গজারিয়া ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানার নৌপুলিশ টহল দিলেও নৌ-ডাকাত বাহিনী দ্রুতগতির স্পিডবোট ব্যবহার করে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পদ্মা ও মেঘনা নদীর জলদস্যু বাবলা বাহিনীর প্রধান ১৮ মামলার আসামি বাবলা বাহিনী মেঘনা নদীতে ডাকাতি করে ১৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। একই বছরের ১১ নভেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেঘনা নদী ঘেষাঁ কালিরচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নৌ-ডাকাত রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৩ রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা করে ডিবি পুলিশ। ২০১৬ সালের ১৯ আগস্ট রাতে মেঘনা নদীতে বরযাত্রীবাহী লঞ্চে হানা দিয়ে ডাকাতরা ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ২০১৫ সালের ৫ জুন রাতে চরজাজিরা গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে বরযাত্রীর ট্রলারে ডাকাতদল হামলা চালিয়ে ১৫ যাত্রীকে আহত করে নববধূসহ যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল সেট ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।

২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মেঘনা নদীতে রডবোঝাই ট্রলারে থাকা ১৫ থেকে ১৬ জনের ডাকাত দলের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পুলিশ কনস্টেবল আবদুল মালেক নিহত ও তিন পুলিশ গুলিবিদ্ধ হন এবং পুলিশের গুলিতে রুবেল নামের এক নৌ-ডাকাত নিহত হয়।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *