মুন্সিগঞ্জসহ ২৭ জেলার নাগরিক পহেলা মার্চ থেকে স্মার্ট কার্ড পাবে

দেশের ১০ সিটি কর্পোরেশন ও ২৭ জেলার পর আরো ২৭ জেলায় ভোটারদের স্মার্ট কার্ড ( জাতীয় পরিচয়পত্র) দেয়ার পরিকল্পনা করছেন নির্বাচান কমিশন (ইসি)। তবে ৯ কোটি ভোটারকে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও ফ্রান্সের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ায় প্রথমিকভাবে ৭ কোটি ভোটারকে এই কার্ড দিচ্ছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি।

ইসি সূত্র জানায়, পহেলা মার্চ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে ২৭ জেলায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এসময় জেলাগুলো থেকে প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

সিইসি ছাড়াও চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, বিদেশীদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশের দক্ষ জনবল দিয়ে প্রতিদিন নতুন ১ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট হচ্ছে, যা আগের থেকে ১০ গুণ বেশি। অন্যদিকে এ উদ্যোগে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তির বিকাশের সুযোগ হচ্ছে। গত ২৭ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের দক্ষ তরুণদের দিয়ে স্মার্ট কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ ও বিতরণ হচ্ছে। পূর্বে বিদেশীদের মধ্যমে এটি পরিচালিত হত। বর্তমানে বাংলাদেশিদের মাধ্যেমে এসব কাজ হওয়ায় ইসির ১৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

এনআইডি কমিউনিকেশন কর্মকর্তা হোসাইন আশিকুর রহমান জানান, ফেব্রায়ারিতে ২৭ জেলায় স্মার্ট কার্ড তিতরণের প্ররিকল্পনা ছিল। কিন্তু কিছু কাজ বাকি থাকায় হয়ত এসব জেলায় মার্চে বিতরণ করা হতে পারে। জানুয়ারির শেষের দিকে চোঁখের অইরিশ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়ার কথা পেলে ফেব্রুয়ারির শেষে অথবা পহেলা মার্চ ২৭ জেলায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করা হবে।

তিনি বলেন, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ার কারণ ৯ কোটির মধ্যে প্রায় সাত থেকে সাড়ে সাত কোটি স্মার্ট কার্ড পাওয়া গেছে। এসব কার্ড দ্রুত বিতরণের জন্য ইসি প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যে ২৭ এলাকায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হচ্ছে পহেলা মার্চে: মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ি, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নাটোর, নওগাঁ, নওয়াবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চূয়াডাঙ্গা, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক বিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বলেন, বিদেশের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের দেশের জনবল দিয়ে স্মার্ট কার্ড উৎপাদন করছি। আমরাও পারি এটা প্রমাণ করেছি।

তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ৯ কার্ড পাইনি। তবে আমি মনে করি দেশে উৎপাদন করে ২০১৯ সালের মধ্যে সকাল নাগরিকের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দিতে পারব।

বর্তমানে স্মার্ট কার্ড বিতরণ চলমান রয়েছে যে ২৭ জেলায়: গাপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও শরীয়তপুর সদর,বান্দরবান সদর, খাগড়াছড়ি সদর, কক্সবাজার সদর ও রাঙামাটি সদর। বরিশাল অঞ্চল: পিরোজপুর সদর, পটুয়াখালী সদর, ঝালকাঠি সদর ও বরগুনা সদর। খুলনা অঞ্চল: মেহেরপুর সদর, বাগেরহাট সদর ও নড়াইল সদর। সিলেট অঞ্চল: হবিগঞ্জ সদর ও সুনামগঞ্জ সদর। রাজশাহী অঞ্চল: বগুড়া সদর, জয়পুরহাট সদর ও পাবনা সদর। ময়মনসিংহ অঞ্চল: নেত্রকোনা সদর। রংপুর অঞ্চল: কুড়িগ্রাম সদর, লালমনিরহাট সদর ও পঞ্চগড় সদর। কুমিল্লা অঞ্চল: নোয়াখালী সদর।

এর আগে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকার সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়।

দেশে ১০ কোটি ১৮ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে। আগামী বছর একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে মৃতদের বাদ ও নতুনদের যোগ করে এ সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১০ কোটি ৪৩ লাখে।

বিডি২৪টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *