পলিথিন ব্যাগে বাজার সয়লাব, মিরকাদিমে হারাতে বসেছে ঠোঙ্গা শিল্প

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভাস্থ দক্ষিণ কাগজীপাড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ঠোঙ্গা শিল্প এখন হুমকির মুখে। প্রায় চারশত পরিবারের দুই হাজার লোকের গ্রামটিতে এক সময় প্রায় সব পরিবারের সদস্যরাই জড়িত ছিলো এই কুঠির শিল্পের সাথে। প্রতিটি পরিবারের জীবন ও জীবিকার এক মাত্র অবলম্বন ছিলো এই ঠোঙ্গা শিল্প। পর্যায়ক্রমে দেশের বাজারগুলোতে পলিথিন ব্যাগ ছড়িয়ে পরলে ঠোঙ্গার চাহিদা দিনে দিনে কমতে থাকে এবং সংসার খরচের তাগিদে এই পেশা থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন পন্থায় রোজগারের পথ খোঁজতে থাকে অনেকেই।

পলিথিন ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা যেমন কমে যায়, তেম্নি পরিবেশ দুষনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে এই পলিথিন। তাই পরিবেশ রক্ষায় ও মাটির উর্বরতা ধরে রাখতে পলিথিন ব্যাগ বাজারজাত ও ব্যবহারে সরকারীভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও দেশের সবগুলো বাজার বা দোকানের বেচা বিকিতে ব্যবহৃত হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ, ফলে পরিবেশ বান্ধব ঠোঙ্গার চাহিদা কমতে থাকে। কোন এক সময় বাংলাদেশের এক মাত্র ঠোঙ্গা শিল্প এলাকা ছিলো মুন্সীগঞ্জ জেলার সাবেক রিকাবীবাজার ইউনিয়ন বর্তমানে মিরকাদিম পৌরসভার কাগজীপাড়া। এখন কাগজীপাড়া ছাড়াও, পাবনা জেলার কয়েকটি এলাকায় ও ঢাকার কেরানীগঞ্জসহ অন্যান্য কিছু এলাকাতেও ঠোঙ্গা তৈরী হচ্ছে।

তবে যেখানেই ঠোঙ্গা তৈরী হোকনা কেন, ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন বাজারে কাগজীপাড়ার তৈরী ঠোঙ্গার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সিমেন্ট মাটির ব্যাগ থেকে মাটি ব্যবহারের পর কাগজের খালি বস্তাগুলো কিনে এনে সেগুলো ঝেড়ে পরিস্কার করে বিভিন্ন সাইজে কেটে পরিবারের সদস্যরা বা কারিগরদের সহায়তায় আঠার সাহায্যে জোড়া লাগিয়ে এবং সেগুলো রোদে শুকিয়ে তৈরী করে ঠোঙ্গা। আর সে সব ঠোঙ্গা বাজারজাত করতে সুন্দর করে সাজিয়ে পাঁচ বা ১০ কেজির বান্ডেল করে চাহিদা অনুযায়ী দোকানে পাঠান ব্যবসায়ীরা। ঠোঙ্গা ব্যবসায়ী বাতেন মিয়া, খোরশেদ আলম, মাসুদরানাসহ বেশ কয়েকজনকে পাওয়া যায় কাগজীপাড়ার নতুন মাঠে, যারা ঠোঙ্গা বানিয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

ঠোঙ্গা ব্যবসার পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বাতেন মিয়া প্রথমেই বলেন, পলিথিন ব্যাগের ধাপটে বাজারে তাদের ঠোঙ্গার অর্ধেকেরও বেশি চাহিদা কমে গেছে, পলিথিন ব্যাগ বাজার থেকে না উঠাতে পারলে ঠোঙ্গার ব্যবসা একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে। একই অভিযোগ খোরশেদ আলমের, সরকার মুখে মুখে পলিথিন ব্যাগের উপর নিষেধের কথা বল্লেও, সব দোকানেই পলিথিন ব্যাগের ছড়াছড়ি। শুধু আইন করে আইনের প্রয়োগ না করলে সেই আইন করার দরকারইবা কেন? বলে জানান, খোরশেদ আলম।

মাসুদ রানা জানালেন, কাগজ থেকে ঠোঙ্গা বানানো পর্যন্ত এক কেজিতে তাদের খরচ হয় ৬০ থেতে ৭০ টাকা। মুনাফা করে এই ঠোঙ্গা বাজারে বিক্রিতে তাদের কোন সমস্যায় পরতে হতোনা। কিন্তু পলিথিন ব্যাগের কারণে ঠোঙ্গা বেচে মুনাফা করা দু:স্বাধ্য হয়ে গেছে তাদের। স্বাধীনতার পর থেকে কাগজীপাড়া গ্রামে প্রায় ৯৫ শতাংশ লোক ঠোঙ্গা শিল্পের সাথে জড়িত থাকলেও অল্প পূজিঁতে করতে পারা এই ব্যবসাটির সাথে এখন আর জড়িয়ে নেই এই গ্রামের অর্ধেক মানুষও।

এখানকার ঠোঙ্গা ব্যবসায়ীরা জানালেন, সরকারী আর্থিক কোন সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা নেই তাদের। তবে যথাযথ ভাবে বাজার মনিটরিং করে পরিবেশ বান্ধব এই শিল্পকে বাঁচাতে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে সরকারকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *