সিরাজদিখানে সন্তানের স্বীকৃতি আদায়ে ‘পিতা’র বিরুদ্ধে ‘পুত্রে’র অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামে মো. শানাল ২৬ বছরেও পিতার কাছ থেকে পায়নি তার সন্তানের অধিকার। সন্তানের স্বীকৃতি আদায়ে পিতার বিরুদ্ধে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের একাধিক অভিযোগ করেছে।

অভিযোগকারী মো. শানাল উপজেলার দোসরপাড়া গ্রামের মো. রফিউদ্দিনের ছেলে বলে দাবি করছেন।

১৮ ডিসেম্বর সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদ, সিরাজদিখান উপজেলা প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ মানবাধিকার উন্নয়ন কমিশন মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা বরাবর তার পিতার বৈধ সন্তান হিসেবে স্বীকৃতির অধিকার আদায়ে সহযোগিতার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী মো. শানাল জানান, বিগত ২৭ বছর পূর্বে আমার গর্ভধারিনী মায়ের সাথে আমার পিতা মো. রফিজউদ্দিনের সাথে আমার মাতা হালানী বেগমের ইসলামি শরিয়া মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আমার পিতা-মাতার ঔরসজাত সন্তান আমি। আমি জন্মের পর হতেই আমার গর্ভধারিনী মা (হালানী বেগম) আমাকে লালন-পালন করে বড় করেছেন। জন্মের পর আমার পিতা মো. রফিজউদ্দিন আমার মাকে ফেলে গিয়ে অন্যাথায় বিয়ে করে আমাদের ভরণ-পোষনের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করে। আমি জন্মের পর হতে জেনে এসেছি যে, মো. রফিজ উদ্দিন আমার জন্মদাতা পিতা। কিন্তু এখন আমার পিতা মো. রফিজ উদ্দিন আমাকে সন্তান হিসেবে স্বীকার করেন না। ২৬ বছর ধরে আমার পিতা আমাকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ায় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের কাছে তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

লতব্দী ইউপি চেয়ারম্যান এসএম সোহরাব হোসেন ঢাকাটাইমসকে জানান, সিরাজদিখান থানার এএসআই মো. সোহাগ হোসেন থেকে এ বিষয়ে শুনেছি। এ বিষয়ে অভিযোগকারী আমার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজ (ভোটার আইটি/পাসপোট বা কাবিননামা) পত্রের ফটোকপি জমা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোটার আইডি যদি না থাকে পাসপোটের ফটোকপি দিলেও চলবে। তা থেকে মাতা ও পিতার নাম জানা যাবে।

উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহনেয়াজ শান্ত জানান, পিতৃ পরিচয় আদায়ে মো. শানাল নামে একটি ছেলে প্রেসক্লাব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছে।

জাতীয় মানবাধিকার মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সমন্বয়কারী মো. মোস্তফা জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মানবধিকারের পক্ষ থেকে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযোগকারীকে সর্বপ্রকার সহোযোগিতা প্রদান করা হবে।

সিরাজদিখান থানার এএসআই মো. সোহাগ হোসেন ঢাকাটাইমসকে জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে রফিজউদ্দিনের বাড়িতে তদন্ত করতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। সন্তান দাবিকারী মো. শানালের বিষয়ে তার সাথে কথা বলার জন্য দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে থানায় ফিরে আসি। আশেপাশে থাকা উপস্থিতদের জানিয়ে আসি রফিজউদ্দিন এলে থানায় দেখা করতে। শুক্রবার রফিজউদ্দিন ফোনে জানিয়ে ছিলেন তিনি থানায় এসে দেখা করবেন- কিন্তু করেননি।

ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *