জুম্মার মুসল্লীদের অংশ গ্রহণে মুন্সীগঞ্জে ইজতেমার ময়দান ছিলো সরগরম –

ময়দান ছাপিয়ে সড়ক জুড়ে জুম্মার জামাতের সারি
জসীম উদ্দীন দেওয়ান : মিরকাদিম পৌর ভবনের পূর্ব -পশ্চিম ও উত্তর দিকের পাঁচটি মাঠকে চারটি খিত্তায় বিভক্ত করে লাখো মুসল্লিদের আয়োজন নিয়ে শুরু হয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা আঞ্চলিক ইজতেমা। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর আম বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার মূল আনুষ্ঠিকতা শুরু হয়। এর পর কয়েক ধাপে চলে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত এবং ঈমান ও আমল সম্পর্কে কাকরাইলের মুরব্বিদের বক্তব্য। ইজতেমার প্রথম দিনে মুসল্লীদের রাত দশটা পর্যন্ত টানা ইবাদতের ফাঁকে ফাঁকে শোনতে পাওয়া যায় শুক্রবার জুম্মার নামাজ নিয়ে প্রস্তুতির বিষয়টি।

দ্বিতীয় দিনে বাদ ফজর মাওলানা নাসিম সায়েদের ঈমান ও আমল সম্পর্কীয় বয়ান দিয়ে শুক্রবার দিন শুরু হয়। এর পর থেকে ইজতেমার মুসল্লীদের কাছে অধিক গুরুত্বপায় জুম্মার নামাজের প্রস্তুতি নেবায় বিষয়। তিনদিনের জামাতে অংশ গ্রহণ করতে আসা ইজতেমার মুসল্লীরা অতিসহজেই লাখো মুসল্লীদের কাধে কাধ মিলিয়ে জুম্মার নামাজ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন। আর সেই সুযোগটা হাত ছাড়া করতে চায়নি তিন দিনের জন্য ইজতেমার ময়দানে না আসা মুন্সীগঞ্জের অন্য মুসল্লীদের মধ্যে থেকে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মুসল্লী। শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার পর থেকেই পাঞ্জাবি, টুপি পড়া মুসল্লীদের পদচারণায় মুখরিত হতে থাকে ইজতেমা ময়দানের পাশের পথ থেকে শুরু করে হাট বাজার পর্যন্ত। মিরকাদিম পৌরসভা, রামপাল, পঞ্চসার, বজ্রযোগিনী, আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের মুসল্লীরাই কেবল নয়।

জুম্মার নামাজ টার্গেড করে ছুটে আসে, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা, টংগবাড়ি, সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও গজারিয়া উপজেলা থেকে অনেক মুসল্লীরা। জুম্মাকে উদ্দেশ্য করে অতিরিক্ত ৫০ হাজারেরও অধিক মুসল্লীর সমাগম ঘটে ইজতেমার ময়দান জুড়ে। তবে ময়দানে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় রিকাবীবাজার ইউনিয়নের পুরাতন ভবনের সড়ক থেকে মিরকাদিম পাওয়ার ষ্টেশনের সড়ক পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার পথ ভরে যায় জুম্মার নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লীদের অংশ গ্রহনে।

এদিকে ইজতেমার লাখো মুসল্লীদের সাথে জুম্মা আদায় করার জন্য মিরকাদিম পৌরসভার সকল পাড়া মহল্লা থেকে ছুটে আসে প্রায় সকল মুসল্লীরা। ইজতেমার ময়দান নিজ পৌরসভায় হওয়ায় এই সুযোগটা কাজে লাগাতে হাতে হাতে জায়নামাজ নিয়ে ছুটতে থাকে তাঁরা। এগারোটার পর থেকে প্রতিটি পাড়া মহল্লা অলি গলি বেয়ে কেউবা রিক্সা, কেউবা মোটরসাইকেল যোগে আবার কোন বাহন না পেয়ে অধিকাংশ লোকেরাই দুই তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ছুটে যায় ময়দানের কাছে। প্রায় সকল মুসল্লীরা ইজতেমার ময়দানে চলে যাওয়ায় মিরকাদিম পৌর সভার সকল মহল্লার মসজিদগুলোর জুম্মার জামাতে তেমন কাতার হতে দেখা যায়নি। বরাবরের মতো মসজিদ না ভরে মুসল্লী প্রায় শূণ্য হয়ে যায় মসজিদ গুলো। আর ইজতেমার জুম্মায় মিলন ঘটে দেড় লাখেরো বেশি মুসল্লী।

এই দিন দেড়টায় মাওলানা ফারুক সায়েদ খুৎবার মাধ্যমে জুম্মা নামাজের ঈমামতি করেন। পরে তিনি ঈমান ও আমল এবং কেন তাবলীগ জামাতে যাওয়া জরুরী সেই বিষয়ে আলোকপাত করেন। বাদ আসর বয়ান করেন মাওলানা ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ সায়েদ, তাঁর বক্তব্যের বিষয় বস্তু ছিলো মানুষের ঈমান ও আলম সম্পর্কীত। বাদ মাগরিব মানুষের হেদায়াতের উপর বয়ান করেন মাওলানা ফারুক সায়েদ, টানা সাড়ে তিন ঘন্টা এই বয়ান চলে রাত নয়টায় শেষ হয়ে এশার নামাজের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় দিনের জামাতের সম্মিলীত কার্যক্রম শেষ হয়। তবে নিজ এলাকায় ইজতেমার আয়োজনে প্রায় দেড় লাখ মুসল্লীদের সাথে জুম্মা নামাজ আদায় করতে পাড়ায় আনন্দিত ছিলো মিরকাদিমবাসীরা। ইজতেমার ময়দানে জুম্মা আদায় করা নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে দিন ভর ছিলো উৎসবের আমেজ। বাড়ির পাশে এতো বড় জামাতে জুম্মা নামাজ আদায় করতে পারায় ভেজায় খুশি তাঁরা।