সারা দেশের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এখন টপ ওয়ান

নেপথ্যে জি এম এর অক্লান্ত পরিশ্রম
জসীম উদ্দীন দেওয়ান : এক সময়কার অবহেলিত মুন্সীগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এখন দেশের টপ ওয়ান । দেশের বিভিন্ন জেলা অফিসগুলো অনুসরন করছে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে। সিস্টেম লস কমানো, বকেয়া আদায়, গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানো, উপকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, গ্রাহকদের অভিযোগ সংখ্যা অবিশ্বাসভাবে কমিয়ে আনা, ট্রান্সফরমার পোড়ানোর সংখ্যা কমিয়ে আনার কৌশলসহ নানা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফাল্যে এখন ঈর্ষাম্বিত অন্যান্য জেলা অফিসগুলো। বর্তমানে এই জেলায় ১৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এর চাহিদ থাকলেও বিতরণের ক্ষমতা রয়েছে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। যা আগামী দুই বছরে বিতরণের ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ৫০০ মেগাওয়াটে। গেল ছয় বছর আগে যেখানে গ্রাহক সংখ্যা ছিলো ১,৯৮,৫০৩ জন।

গ্রাহক সংখ্যা দ্বিগুন বেড়ে বর্তমানে চার লাখে ছোঁয়ার পরেও এই জেলায় নেই কোন বিদ্যুৎ ঘাটতি। ফলে লোড শিডিংয়ের ঘটনা এখন আর চোখে পরেনা এই জেলায়।শুধু মাত্র সংস্কারের কাজে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটতে দেখা যায়। পুরো জেলা জুড়েই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ্র বিতরণ কার্যক্রমে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অসিফের বর্তমান সাফল্য চোখে পরার মতো। ২০১২ সালের মার্চ মাসে মাহবুব রহমান মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে জি এম হিসেবে যোগ দেবার পর, তাঁর সুদক্ষ পরিচালনা এবং নেতৃত্ব আজ মুন্সীগঞ্জের এই কর্য্যালয়টিকে দেশের অন্য সকল অফিস মডেল হিসেবে বেছে নিয়েছে। সিরিয়র জি এম মাহবুব রহমান শুধু অফিস সময়ের ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নির্ধারিত কর্ম ঘন্টার বাইরে

ও এই জেলার বিদ্যুৎ উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ উন্নয়নেও কাজ করেছেন নীবিরভাবে। বিদ্যুৎ বিতরণ কাজে দূর্ঘটনা এড়াতে এবং বিদ্যুৎ কাজে সফলতা লাভে লিখেছেন, বৈদ্যুৎতিক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত কেস ষ্টাডি ও বেসিক কনসেপ্ট অব রোবাল ইলেক্টিফিকেশন স্টাডি নামের দুটি গবেষনা ধর্মী বই। যে দুটি বই পড়ে উপকৃত হচ্ছে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা। আর এই বই দুটি দেশের সকল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসেই পাওয়া যায়। জি এম মাহবুব রহমানের সফলময় কাজের ফলে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২০১৪ সালে পেয়েছেন দেশ সেরা কার্যালয়ের পুরস্কার আর ২০১৫ সালে তিনি নিজেই ছিনিয়ে এনেছেন সে বছরের দেশের শ্রেষ্ঠ জি এমের পদকটি।

মাহবুব রহমান এই জেলার বিদ্যুৎ উন্নয়নে নিজের নিরলস কাজের পাশাপাশি তাঁর নিম্ম পদস্থ কর্ম কর্তাদের সহযোগিতা আদায় করে নিয়ে ভবিষৎয়ে এই জেলাকে দাঁড় করাচ্ছেন ফুলটাইম বিদ্যুৎ জেলা হিসেবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জে এক মিনিটের জন্যও বিদ্যুৎ যাবেনা। সেই দিন আর বেশি দুরে নয়। এই টার্গেড সামনে রেখে অনেক সংস্কার কাজ হয়ে গেছে, ইতোমধ্যে গ্রাহকদের অভিযোগের সংখ্যা একে বারেই কমিয়ে এসছে। এই সাফল্যের পিছনে লাইন পরিদর্শন ও রক্ষনা বেক্ষন কাজের প্রতি গভীর নজর রাখাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, আগামী বছর জুন মাসে শ্রীনগরে চালু হচ্ছে একশ মেগাওয়াটের আরেকটি গ্রীড। এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ জেলাবাসীকে একটি শুভ সংবাদ প্রচারের অনুরোধ করে বলেন, কোন কারণে কখনো জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটলেও মুন্সীগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার যোগ্যতা রয়েছে। মুন্সীগঞ্জে জেলায় নিজস্ব গ্রীড থেকে ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দুর্যোগের এই সময় সহযোগিতা করবে।

যে মানুষটি এই জেলাকে ভালোবেসে জেলার উন্নয়নে ছয়টি বছর নিজের কঠোর শ্রম দিয়ে অবহেলিত মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে আজ মডেল কার্য্যালয়ে রূপান্তিত করেছেন। সারাদেশের মধ্যে সম্মানের কোঠায় দাঁড় করিয়েছেন এই জেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিয়ম ধারাকে। সেই মানুষটিকে কর্মস্থান ত্যাগ করে চলতি মাসের সাত তারিখে চলে যেতে হচ্ছে নতুন কর্মস্থল কেরানীগঞ্জে। মুন্সীগঞ্জবাসীকে আলোকিত মুন্সীগঞ্জ উপহার দিতে পেরে তিনি নিজেও ধন্য বলে জানালেন কর্মট এই মানুষটি।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *