বিজয়ের মাসে বসছে পদ্মাসেতুর আরও দুই স্প্যান

পুরোদমে এগিয়ে চলেছে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ। ‍দু’মাস আগেই ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের সেতুটি। এখন স্প্যান বসতে প্রস্তুত ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারও।

পদ্মার একপাড় জাজিরা প্রান্তে চলছে ৩৮,-৩৯ নম্বর ও ৩৯,-৪০ নম্বর পিলারের ওপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্প্যান বসানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি। আর অন্যপাড়ে মাওয়ার কুমারভোগ ওয়ার্কশপে ৭বি ও ৭সি স্প্যান দু’টিকে পিলারের ওপর স্থাপনের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। শেষ ধাপে রংয়ের কাজ শেষ হলে ভাসমান ক্রেনের মাধ্যমে মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্তে নিয়ে আসা হবে।

বিজয়ের মাসে স্প্যান দু’টি বসানোকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন পদ্মাসেতু প্রকল্পের প্রকৌশলীরা। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই সেগুলো পিলারের ওপর বসবে বলেও আশাবাদী তারা।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সরেজমিনে মাওয়া প্রান্তে গিয়ে দেখা গেছে, ৪০ নম্বর পিলারের চূড়ান্ত ধাপের কংক্রিটিং ঢালাই শেষ হয়েছে। সকাল থেকে চলছিল ৩৯ নম্বর পিলারের সাটারিং খোলার কাজও। ইতোমধ্যেই ঢালাই শেষ হয়ে এখন স্প্যান বসানোর অপেক্ষায় পিলারটি।

প্রকৌশলীরা বাংলানিউজকে বলেন, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের ওপর ডিসেম্বরের ২য় সপ্তাহে স্প্যান বসবে বলে আমরা আশাবাদী। ৩৮নং পিলারটি আগে থেকেই প্রস্তুত আছে। এখন খুঁটিনাটি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

৩৯ নম্বর পিলারেও কংক্রিট ঢালাইয়ের আগে ৩ ধাপে পাইল ক্যাপ কংক্রিটিং করা হয়েছে।, শেষ ধাপের কংক্রিটিংয়ের আগে পিয়ার কলামের রড প্রবেশ করা হয়েছে।

এরপর বাইন্ডার রড দিয়ে বেঁধে উপযোগী করে তোলা হয়। বাইন্ডার রড সেটআপ শেষে সাটার সেটআপ করা হয়। এর আগে সাটারের ভেতরে রিলিজিং এজেন্ট লাগানো হয়। আনুষঙ্গিক কিছু ফরম ভাইব্রেটর মেশিন সেট করা হয় তার সঙ্গে। এরপর চূড়ান্ত পর্যায়ে পিন্থ ঢালাই করা হয়।

এছাড়াও বেয়ারিং বসানো হবে যা,, সেতুর ভূকম্পন রোধ করবে এবং সেতুর ভারসাম্য কাজেরগতি বাড়িয়ে প্রকল্প এলাকায় বেড়ে গেছে সংশ্লিষ্টদের ব্যস্ততা।

নতুন বছরের (২০১৮ সাল) প্রথম দিকে পাইল ক্যাপের কাজ শুরু হবে পিলারটির। ৪০ নম্বর পিলারেরও চূড়ান্ত ধাপের কংক্রিটিং ঢালাই শেষ হয়েছে এবং ৭-৮ দিন পর শাটারিং খোলা শুরু হবে। ৪১ নম্বর পিলারের পাইল পোরশনের কাজও। তবে পাইলটি পুরোপুরি উপযোগী হতে ডিসেম্বর মাস লেগে যাবে।

৪২ নম্বর পিলারের পাইল ক্যাপ ঢালাই শেষ ও পিলারের রড বাঁধাইয়ের কাজ শুরু হবে শিগগিরই। এর পরে পিয়ার কলামের প্রথম ধাপের ঢালাই শুরু হবে।

এসব কাজে বিশেষজ্ঞ প্যানেল নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করে পরামর্শ এবং সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম স্প্যান বসানোর পর প্রতি মাসেই একটি করে স্প্যান ওঠানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছিলেন পদ্মাসেতুর প্রকৌশলীরা। তবে গত দুই মাস পিলারের ওপর স্প্যান বসানো যায়নি।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২ পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান।

পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে ৭২ ফুট সেতুটি থাকবে চারলেনের সড়ক এবং পানির স্তর থেকে পদ্মাসেতুর উচ্চতা হবে ৬০ ফুট।

সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে ২০১৮ সালের শেষের দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য পদ্মাসেতু চালুর কথা রয়েছে। গতি বাড়িয়ে তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে কাজেরগতি বাড়িয়ে প্রকল্প এলাকায় বেড়ে গেছে সংশ্লিষ্টদের ব্যস্ততা।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

Leave a Reply