ভালো নেই টেলিসামাদ

আমি ভালো নেই। আমার খবর কেউ এখন আর নেয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। ঘরে বসেই কেটে যাচ্ছে আমার সময়। এখন কথা বলতেও কষ্ট হয়। দিনের পর দিন অসুস্থ হয়ে ঘরেই দিন কাটছে আমার। বাইরেও তেমন যাওয়া হয় না।

অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রি’ ছবিতে সবশেষ কাজ করেছিলাম। এখন তো ভালো সিনেমার কাজও কমে গেছে। আর আমাদের তো ডাকে না। গতকাল বেশ আফসোসের সুরে মানবজমিনকে এ কথাগুলো বলছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্র, টিভি নাটক এবং মঞ্চের শক্তিমান অভিনেতা টেলিসামাদ। ১৯৪৫ সালের ৮ই জানুয়ারি ঢাকার বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন এই শিল্পী। কাজী হায়াত পরিচালিত ‘মনা পাগলা’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি। সত্তরের দশক থেকে তাকে পর্দায় দেখেছেন দর্শক। তার অভিনয় দর্শকের মনে আজও গেঁথে আছে। দেশীয় চলচ্চিত্রের শক্তিশালী অভিনেতাদের মধ্যে একজন টেলিসামাদ।

তিনি বলেন, নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালের দিকে ‘কার বৌ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে এই অঙ্গনে পথচলা শুরু আমার। তবে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করে আমার অভিনীত ‘পায়ে চলার পথ’ ছবিটি। এরপর অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করা হয়েছে। অভিনয়ের বাইরে ৫০টির বেশি ছবিতে তিনি গান করেছেন। বর্তমানে এই অভিনেতা অসুস্থ হয়ে ঘরে শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই খারাপ। অভিনয়ের বাইরে লেখালেখি, গান ও ছবি আঁকার প্রতিও প্রবল ঝোঁক রয়েছে তার। কয়েকদিন আগে নিজেই একটি নাটক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের কাহিনী নিয়ে একটি নাটক নির্মাণের কথা ভেবেছিলাম। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য আর কাজটা করা হয়ে ওঠেনি। এফডিসিতে যেতে খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু অসুস্থ থাকার কারণে যাওয়া হয়ে ওঠে না আমার। প্রায় ছয় শতাধিক ছবিতে আমি কাজ করেছি। সময় কত দ্রুত চলে গেল টেরই পেলাম না। উল্লেখ্য, অসুস্থতার পর চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ২০শে মে আমেরিকায় যান টেলিসামাদ। দীর্ঘ চার মাস নিউ ইয়র্কে অবস্থান করার পর ২৫শে সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন। এরপর ২০১৫ সালের অক্টোবর তার পায়ের বুড়ো আঙুলে ক্ষত দেখা দেয়। ওই বছরের ১৮ই অক্টোবর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন।

এরপর বাসায় ফিরেছেন ঠিকই, কিন্তু শারীরিকভাবে আর সুস্থ হতে পারেননি। মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলার সময় বার বারই বলছিলেন কষ্ট হচ্ছে কথা বলতে। তাই আর কথা বাড়াতে চাই না।

মানবজমিন