শিক্ষকের কাছে চেয়ারম্যানের ছেলের চাঁদা দাবি

মুন্সীগঞ্জে এক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলের বিরুদ্ধে শিক্ষকের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষক নুর মোহাম্মদ গতকাল সোমবার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের কার্যালয়ে গিয়ে এ-সংক্রান্ত একটি ফোন রেকর্ড জমা দিয়েছেন।

রোববার রাতে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরডুমুরিয়া গ্রামে ওই শিক্ষকের বসতবাড়িতে চাঁদা দাবির এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কানন দেওয়ান ওই ইউপির চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনার ছেলে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওই শিক্ষক থানায় কানন, তার সহযোগী মাসুদ ও মিল্টন মল্লিকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। যার তদন্তভার ডিবিকে দেওয়া হয়েছে।

এক মিনিট ২৭ সেকেন্ডের ওই মোবাইল কথোপকথনে চাঁদা দাবির বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

নুর মোহাম্মদ উপজেলার চিতলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

তিনি জানান, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কানন তাকে বাসার ছাদে নিয়ে সহযোগী মাসুদ ও মিল্টনসহ কয়েকজনের উপস্থিতিতে এ চাঁদা দাবি করে। দুই দিনের মধ্যে না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর তিনি কাননের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে টাকা দেওয়ার ব্যাপারে কথা বলেন এবং তা রেকর্ড করেন।

কথোপকথনটি ছিল এ রকম :

শিক্ষক নুর মোহাম্মদ :’কানন, বাসায় চলে গেছ।’ অপর প্রান্ত থেকে কানন : ‘হ আমি বাড়িতে আইয়া পড়ছি। আমারে ফোনে বিরক্ত কইরেন না। আমি যা কইছি, এইড্যা ইয়াদ কইরেন। মাসুদ আমার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করে, আপনে ওর সঙ্গে ম্যানেজ কইরা কাজ কইরেন।’

শিক্ষক নুর মোহাম্মদ :’দুই লাখ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা কি একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের আছে?’
কানন : ‘আমার কথামতো কাজ কইরেন, আমাকে ঘুরাইয়েন না। তাইলে কিন্তু জাইন্না রাহেন, আমি কিন্তু মানুষ হজম কইরা লায়নের ক্ষমতা রাখি। আমি আমার মায়ের ক্ষমতায় নয়, নিজের ক্ষমতায় চলি। আমারে বেশি বুঝাইয়েন না। টাকা আপনের দিতে হইব। আপনে বাড়ি বেইচ্ছা দেন, গাড়ি বেইচ্চা দেন, না কইত্তে দিবেন, তা আমার জানার দরকার নাই।’

তবে কানন দেওয়ান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে মাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। মা জনপ্রতিনিধি হওয়ায় এলাকা দেখভাল করে তাকে সহযোগিতা করে থাকি। নেতানেত্রীদের সন্তানদের বিরুদ্ধে মানুষ নানা অভিযোগ করে থাকে।

সমকাল