থানায় এসে আ’লীগের বিরুদ্ধে মামলা করে উধাও ওয়ারেন্টভুক্ত বিএনপি নেতা!

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে একাধিক মামলায় দীর্ঘদিনের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা কায়েস থানায় এসে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছে।

গত ১৩ নভেম্বর উপজেলার কোলাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ-সম্পাদক আতাহার হোসেন, ইউনিয়ন সহ-সভাপতি হাসেম হাওলাদার, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন সানি, সাংগঠনিক-সম্পাদক নূর-নবী অন্তুসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকা চাদা দাবির মামলা দায়ের করেন এবং যাহার মামলা নং-১৫। গোলাম মাওলা কায়েস দক্ষিন কোলাপাড়া গ্রামের খালেকের পুত্র এবং কোলাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

শ্রীনগর থানা পুলিশের উপরিদর্শক মোঃ ফিরোজ আলী মোল্লা বিডি২৪লাইভকে জানান, সে ৪টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী। কিভাবে একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী এসে মামলা দায়ের করে পালিয়ে যায় তা আমার জানা নেই। পুলিশ কায়েসকে গ্রেফতার করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শ্রীনগর থানা পুলিশ উপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বিডি২৪লাইভকে জানান, মামলা হওয়ার পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়। পূর্বে তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা ছিল তার তদন্ত কর্মকর্তারা বর্তমানে শ্রীনগর থানায় নেই।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আলমগীর হোসেন বিডি২৪লাইভকে জানান, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে তার মধ্যে একটি মামলায় হাজিরা রয়েছে। আরেকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে। মামলাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

মামলাভুক্ত আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, কায়েস দীর্ঘ দিন ধরে একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামী থাকা সত্বেও থানা পুলিশের সহযোগীতায় থানায় হাজির হয়ে মামলা হওয়ার পর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী গোলাম মাওলা কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে থানা পুলিশের একটি টিম কোলপাড়া ইউনিয়নে আসামীদের ধরার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামীকে সাথে নিয়ে পুলিশের এহেন অভিযানে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এম.এত উল্লা কিসমৎ বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমার ইউনিয়নের নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের আচরণে আমরা হতবাক হয়ে পড়েছি। একজন পলাতক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীর দায়ের করা মামলায় কিভাবে আসামিদেরকে পুলিশ ধরতে যায়, এটাই এলাকাবাসীর প্রশ্ন।

মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম বিডি২৪লাইভকে বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত না। যদি ঘটনার সত্যতা মিলে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিডি২৪লাইভ