মোল্লাকান্দি মাদকের হাট

আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: ইয়াবাসহ মাদকের পাইকারি ও খুচরা বিক্রির হাটে পরিণত হয়েছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন। ১০ নভেম্বর দুপুরে ৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ দুই আদিবাসী যুবক গ্রেফতারের পর আলোচনার ঝড় ওঠে বিভিন্ন মহলে। এর দু’দিন আগে একই গ্রাম থেকে দুই কেস বিয়ারসহ আরিফ ও জাহাঙ্গীর নামের দুই মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, এ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিবদমান দু’পক্ষের একটি পক্ষ মাদক বিক্রি ও সেবনে বাধা দিলেও অন্য পক্ষ মাদক বিক্রির সিন্ডিকেটকে নেপথ্যে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। এমনকি মাদক বিক্রি ও সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরডুমুরিয়া ও কংসপুরা গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। মাদক বিক্রি ও আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিবদমান দু’পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করেছে।

গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরডুমুরিয়া, মহেশপুর, পূর্ব মাকহাটীসহ কয়েকটি গ্রামের একাধিক ব্যক্তি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের পাইকারি ও খুচরা বিক্রির সঙ্গে লিপ্ত। এর মধ্যে চরডুমুরিয়া গ্রামের কামাল, আফসার, আনোয়ার ও জসিম, আমঘাটা গ্রামের মান্নান, মহেশপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর, রাজারচর গ্রামের আলামিন, পূর্ব মাকহাটী গ্রামের একাধিক যুবক এবং কংসপুরা গ্রামের দিলদার ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। এ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে আরও অর্ধশতাধিক খুচরা বিক্রেতা রয়েছে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে মোল্লাকান্দির এ মাদক সিন্ডিকেট মাদকের পাইকারি ও খুচরা বিক্রির হাট বসিয়েছে। এ সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক শহর ও শহরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি ক্রয় করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাহার মোল্লা মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের গ্রামে মাদক বিক্রি বন্ধ করার জন্য নিষেধ করেন। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিবদমান দু’পক্ষের সমর্থিতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় এক সপ্তাহ উত্তপ্ত ছিল চরডুমুরিয়া ও কংসপুরাসহ আশপাশের গ্রাম। এ সময় মুহুর্মুহু ককটেল বিস্টেম্ফারণের ঘটনা ঘটে।

মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাহার মোল্লা জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ খান ও তার সমর্থিত পক্ষ মাদক বিক্রির সিন্ডিকেটের আশ্রয়দাতা।

অন্যদিকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ খান পাল্টা অভিযোগে বলেন, মাদক বিক্রির জন্য আওয়ামী লীগ নেতা আজাহার মোল্লা একাধিক ব্যক্তিকে লাখ লাখ টাকার জোগান দিচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের ওসি মো. ইউনুচ আলী জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা কঠোর। মাদক ব্যবসায়ীদের যে কোনো উপায়ে আইনের আওতায় আনা হবে। গত কয়েকদিনে কয়েক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর বর্তমানে মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছে।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *