ভুয়া ঠিকানায় চাকুরি নিয়ে ৬ সার্ভেয়ার বহাল তবিয়তে

ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ছয় সার্ভেয়ার এক যুগের বেশি সময় ধরে সরকারি চাকরি করে যাচ্ছেন বহাল তবিয়তে। ২০০৪ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৫২ সার্ভেয়ারের মধ্যে ছয়জন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির এক নম্বর শর্ত স্থায়ী ঠিকানা নিজ জেলার পরিবর্তে অন্য জেলা, গ্রামের নাম উল্লেখসহ নানা অনিয়ম করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। আর ভুয়া ঠিকানায় সার্ভেয়ার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলায় কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখায় মো. ওবায়দুল ইসলাম ও এসএ শাখায় মো. নজরুল ইসলাম এবং সিরাজদীখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সার্ভেয়ার পদে রেজাউল করিম, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মোসলেম উদ্দিন ও গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সাইফুল ইসলাম কর্মরত রয়েছেন বলে খোঁজ নিয়ে সংশ্নিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অন্যদিকে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করায় চাকরি বাঁচাতে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় কাজগপত্র সঠিক করতে অনিয়মে জড়িয়ে পড়া এবং দুই সার্ভেয়ার পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন ছাড়াই এরই মধ্যে চাকরি স্থায়ী করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্নিষ্ট একাধিক ভূমি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানকালে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর ভূমি মন্ত্রণালয় সারাদেশে ৪৫২ জন সার্ভেয়ার নিয়োগ দেয়। এর মধ্যে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারকারী ছয়জনের মধ্যে চার সার্ভেয়ারকে ময়মনসিংহ ও দু’জনকে মুন্সীগঞ্জ জেলায় পোস্টিং দেওয়া হয়। মুন্সীগঞ্জে যোগদান করা মো. নজরুল ইসলাম ও মো. রেজাউল করিম এবং ময়মনসিংহ জেলায় পোস্টিং দেওয়া মো. ওবায়দুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মোসলেম উদ্দিন, মোহাম্মদ ওয়াছিম খান নামের চারজনসহ এ ছয় সার্ভেয়ার ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেছেন।

এর মধ্যে নিয়োগপত্রের ২৫৭নং তালিকায় থাকা সার্ভেয়ার মো. নজরুল ইসলামের স্থায়ী ঠিকানা চাঁদপুরের মতলব উপজেলার কালিপুরা গ্রামে হলেও তিনি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর উপজেলার রৌদ্রপুর গ্রামের নাম উল্লেখ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তার পরিবার গাজীপুর জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে।

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কেশবপুর গ্রামে পৈতৃক বাড়ি হলেও মো. রেজাউল করিম সিদ্ধিরগঞ্জের পূর্ব সানারপাড় এলাকার নাম ব্যবহার করেছেন। তবে নিয়োগপত্রের ১৪২নং তালিকায় থাকা রেজাউল ইসলাম জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের পূর্ব সানারপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে করছেন তিনি।

নিয়োগপত্রের ২৬০নং তালিকায় থাকা সাইফুল ইসলামের পৈতৃক বাড়ি পটুয়াখালীর লক্ষ্মীপুর গ্রামে হলেও তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রিকাবীবাজার পশ্চিমপাড়া গ্রামের নাম ব্যবহার করেন। সাইফুল ইসলাম তার পৈতৃক বাড়ির কথা স্বীকার করে জানান, সেখানে তার চাচাসহ অন্য স্বজন বসবাস করলেও তিনি ও তার এখানে বসবাস করছেন।

জামালপুর জেলায় পৈতৃক বাড়ি হলেও নিয়োগপত্রের ১৩১নং তালিকায় থাকা সার্ভেয়ার মোসলেম উদ্দিন মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার কৈল গ্রাম স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন মোসলেম উদ্দিন।

পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামে পৈতৃক বাড়ি হলেও নিয়োগপত্রের ২৫৯নং তালিকায় থাকা মো. ওবায়দুল ইসলাম স্থায়ী ঠিকানায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাধাইসুর গ্রামের নাম ব্যবহার করেন।

ওবায়দুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার হোগলা গ্রাম স্থায়ী ঠিকানা হলেও নিয়োগপত্রের ৪৩৮নং তালিকায় থাকা মোহাম্মদ ওয়াছিম খান ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মরদহি গ্রামের নাম স্থায়ী ঠিকানায় উল্লেখ করেন। তবে ওয়াছিম খানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহা. হারুন অর রশীদ বলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলায় কর্মরত পাঁচ সার্ভেয়ার ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি অবহিত নই। তথ্য প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দেখা হবে।

সমকাল