সিরাজদিখানে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ছাত্রের জেএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত

মোজাম্মেল হোসেন সজল: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের খাসমহল বালুরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের হাতে জেএসসি পরীক্ষাথীকে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী তানজিল হোসেনের (১৫) পরীক্ষা দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ব্যথা-যন্ত্রণায় ছটফট করছে পরীক্ষার্থী তানজিল। খাসমহল বালুরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আলী আশরাফের বিচার দাবি করেছে আহত শিক্ষার্থীর আত্মীয়-স্বজন ও সহপাঠিরা। এরআগে ২০০৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আলী আশরাফ একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাসারিতার অভিযোগে শিক্ষক আলী আশরাফ ৪ বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। গত ২ বছর ধরে তিনি পুনরায় ওই বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেছেন, খবর পেয়ে তার ছাত্রকে দেখতে গিয়েছেন এবং স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী হাবিব বেপারীর ছেলে তানজিল হোসেন। তিনি সিরাজদিখানের খাসমহল বালুরচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আগামী ১ ই নভেম্বর জেএসসি (অষ্টম শ্রেণী) পরীক্ষার দেয়ার কথা। গত ২৪ শে অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফ আলী প্রতিদিনের মতো অংক (গনিত) ক্লাশ নিচ্ছিলেন। ক্লাশ চলাকালে একটি অংক খাতায় উঠানো নিয়ে স্কুলের ছাত্র তানজিলকে জিজ্ঞাসা করেন। এতে তানজিল অংকটি তার স্যারকে দেখায়। এতে স্যার ক্ষিপ্ত হয়ে বেত এনে ছাত্র তানজিলকে বেধড়ক পেটায়। শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তানজিল অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তানজিলকে রাস্তায় ফেলে রেখে শিক্ষক আলী আশরাফ চলে যায়। খবর পেয়ে তানজিলের স্বজন ও সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন তানজিল ব্যথা-যন্ত্রণায় ছটফট করছে।

আহত স্কুল ছাত্র তানজিল, তার মা তাসলিমা বেগম, চাচা আলাউদ্দিন বেপারী ও সহপাঠীরা জানালেন, তানজিলকে বেত্রাঘাত করে রক্তাক্ত আহত করে রাস্তায় ফেলে রাখে। অংক পারার পরও খাতায় অংক তোলা নিয়ে স্যার তাকে বেত্রাঘাত করে। হাতে-পায়ে ধরার পরও পেটাতে থাকে।

এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মো. আলী আশরাফ জানান, ওইদিনের ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। একটু শাসন করতে হয় বলে করেছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু মোতাহার মো. নিয়ামুল বাক্বী জানালেন, ছাত্রকে বেত্রাঘাত করার বিষয়টি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্ত নেবেন।