প্রথম মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে পঁচাত্তরে: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টির পর প্রথম মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে। সেদিন চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয় এবং কলঙ্কিত করা হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসকে। বঙ্গবন্ধু সেই খুনদের বিচার না করার সব ষড়যন্ত্র করা হয়।’

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন মুন্সীগঞ্জে শনিবার বিএইচআরসি ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের মানবাধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

মাহবুবে আলম বলেন, ‘তৎকালীন আইনমন্ত্রী (মওদুদ) বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারে সব পথ বন্ধ করার নানান ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছিলেন। যার ফলে এক সময় বিচারকরাই সেই বিচারকাজ করতে বিব্রতবোধ করতেন। কিন্তু জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় আসেন তার নেতৃত্বে জাতির সেই কলঙ্ক মোছার জন্য আমরা সেই খুনিদের বিচার করতে পেরেছি। তাও সেই বিচার ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং আসামিদের সবরকমের সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে। তাদেরকে আপিল করা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগও দেয়া হয়েছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এরপর আবারও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার নীল নকশানুযায়ী তাকেসহ নিরীহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর গ্রেনেড হামলা করে। যদিও সেদিন অলৌকিভাবে সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানিতে প্রধানমন্ত্রী বেঁচে গেলেও তার দেহরক্ষী প্রাণ হারান। সেই সাথে মারা যান আরও অনেক নিরীহ নেতাকর্মী।’

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অপতৎপরতা অব্যাহত আছে। আমাদের সমাজে নারীদের ওপর অত্যাচার, নারী ধর্ষণসহ নানাভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে এক শ্রেণির লোক তৎপর রয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।’

মাহবুবে আলম বলেন, ‘সরকারের মানবাধিকার কমিশন দেশ ও জাতির মঙ্গলে অগ্রসর ভূমিকা পালন করে থাকে। মানবাধিকার নিশ্চিত করার ফলে দেশের মানুষের অধিকারগুলো প্রাধান্য পায়। এছাড়া নারী ধর্ষণ ঠেকাতে সাংবাদিকদের ভূমিকাও রয়েছে যথাযথ। মিডিয়ার মাধ্যমেই দেশবাসী নারীদের নানা অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে থাকে। মিডিয়ার প্রচার এবং মানবাধিকার কমিশন দেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্ব বহন করে থাকে। এর পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কাজ করে চলেছে।’

শহরের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বি এইচ আর সির সভাপতি অধ্যাপক আবু ইউসুফ ফকিরের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত আসনের) হোসনে আরা বেগম বাবলী, মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার, ঢাকা দক্ষিণ বিভাগ গভর্নর কুতুবুদ্দিন আকসির প্রমুখ।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল তার নিজেস্ব তহবিল থেকে জেলা পুলিশ লাইনে এসপি মাহাবুব বীরবিক্রম নামের পাঠাগারে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন বই বিতরণ করেন। সবশেষে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সফিউদ্দিন মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডা. আবু ইউসুফ ফকির, মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসাইন, ওসি তদন্ত মঞ্জুর মোর্শেদ, ওসি এডমিন সাইফুল ইসলাম সবুজ, মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা।

ঢাকাটাইমস