৬ শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য মিলের দুর্বল ব্যবস্থাপনাই দায়ী

রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণ না করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখাসহ সরকার নির্দেশিত ১০টি ত্রুটিপূর্ণ অনিয়মের কারণেই অগ্নিকান্ডে ৬ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছিল মুন্সীগঞ্জের পশ্চিম মুক্তারপুরে আইডিয়াল টেক্সটাইল মিলে। জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা ৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে ১০টি ত্রুটিপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি। গত ৫ অক্টোবর তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম শওকত আলী মজুমদারসহ অন্য সদস্যদের স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ১০টি ত্রুটিপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সরকার নির্দেশিত বিকল্প সিঁড়ি না থাকা, শ্রমিকদের বেরিয়ে যাওয়ার পথ সরু ও ওয়েল্ডিং কারখানা নিরাপদ স্থানে না থাকা, ব্যবহূত রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণ না করা, অগ্নিনির্বাপকগুলো অকেজো, ফায়ার অ্যালার্ম না থাকা, অঘ্নিনির্বাপন মহড়ার আয়োজন না করা, অগ্নিকান্ড প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ না দেওয়া, পানি সরবরাহ নিশ্চিত না করা, বিভিন্ন মাল পৃথকভাবে সংরক্ষণ না করা ও রাসায়নিক দ্রব্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা।

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা অগ্নিকান্ডের দুর্ঘটনায় ২৪ ও ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর সরেজমিন তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীদের গৃহীত জবানবন্দি প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় জেনেছেন, মিল কর্তৃপক্ষ দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সতর্ক ছিল না। ব্যবহূত কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থ কারখানা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সংরক্ষণ করা হলে অঘ্নিকান্ডের সূত্রপাত এবং শ্রমিকদের প্রাণহানি হতো না।

আরও উল্লেখ করা হয়, অগ্নিকান্ডের দিন ওই সময়ে ৬তলা ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষে ৪ টন সোডা অ্যাসসহ অন্যান্য কেমিক্যাল মজুদ ছিল। দ্বিতীয় তলায় উত্তর পাশে কক্ষে এক্সপোজিং মেশিন ও দক্ষিণ পাশে কক্ষে ৫৫ হাজার মি.লি. গ্রাম থান কাপড় মজুদ ছিল, তৃতীয় তলায় মেকানিক্যাল যন্ত্রপাতি, চতুর্থ তলায় বিশ্রাম ও সভা কক্ষ, পঞ্চম তলায় উত্তর পাশে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি ও দক্ষিণ পাশে রোটারি স্ট্ক্রিন মজুদ ছিল এবং ষষ্ঠ তলায় বিশ্রাম ও রান্নাঘরের সঙ্গে ৪০০ পিস ফ্ল্যাট বার মজুদ রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ পশ্চিম মুক্তারপুর শিল্পনগরী এলাকায় গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে আইডিয়াল টেক্সটাইল মিলস নামের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কর্মরত ৬ শ্রমিক জীবন্ত অঘ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় জেনারেল ম্যানেজারসহ ৬ জনকে গ্রেফতার এবং পুলিশ বাদী হয়ে মিলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামছুল আলম সজল ও তিন পরিচালকসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা রুজু করে।

সমকাল