শ্রীনগরে অপহৃত শিশু ৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি!

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে এক ব্যবসায়ীর ৭ বছরের কন্যা শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় অপহরনের করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করার এক সপ্তাহ পরও উদ্ধার করতে পারেনি আইন শৃংখলা বাহিনী। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আলমগীর হোসেন জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। অপহরণকারীরা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করায় তাদের অবস্থান সনাক্ত করা যাচ্ছেনা। তবে খুব শিগ্রই আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারব।

কিন্তু পুলিশ ও র‌্যাবের আশ্বাষ বানীতে অপহৃত শিশুটির পরিবার এখন আর আস্থা রাখতে পারছেনা। গতকাল খোজ নিয়ে দেখা যায়, শিশুটির পরিবারের সদস্যরা উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। অপহরণ কারীরা আগে ফোনে যোগাযোগ করলেও এখন আর তেমন যোগাযোগ না করায় শিশুটির বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্য। পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়রা যে কোন মূল্যে শিশুটিকে উদ্ধারের দাবী জানান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ৬ অক্টোবর রাত ২ টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের খাহ্রা গ্রামে অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহরণ কারীরা রাতের আধারে কৌশলে ওই গ্রামের আসলাম হোসেন টিটুর বিল্ডিংয়ের ভেতরে ঢুকে তার ৭ বছরের কন্যা প্রভাতীকে অপহরণ করে । পরে মোবাইল ফোনে অপহরণকারীরা টিটুর কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। এঘটনায় চুড়াইন বাজারের ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন টিটু পরদিন ৭ অক্টোবর বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আসলাম হোসেন টিটু জানান, ওই রাতে প্রতিদিনের মতো তার তিন কন্যা সন্তান একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। রাত দুইটার দিকে তার বড় মেয়ে চিৎকার করে জানায় মেজ মেয়ে প্রভাতীকে পাওয়া যাচ্ছেনা। এসময় বিভিন্ন স্থানে ফোন করতে গিয়ে দেখেন দুর্বৃত্তরা তাদের মোবাইল ফোন ৩ টি নিয়ে গেছে। পরে অন্য মোবাইল দিয়ে টিটুর নিজ নাম্বারে ফোন দিলে দুর্বৃত্তরা জানায় প্রভাতীকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে পেতে হলে ৭ অক্টোবর সকাল দশটার মধ্যে কেরাণীগঞ্জের কদম তলী এলাকায় এসে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দিতে হবে। এরপর থেকে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অপহরণকারীরা ফোন করে জানায় তারা এখন ঢাকার গাবতলী অবস্থান করছে। দ্রুত মুক্তিপনের টাকা পরিশোধ করে প্রভাতীকে নিয়ে যেতে বলে। এর পর দুপুর বারটার দিকে প্রভাতীর বাবা শ্রীনগর থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেণ। তিনি জানান বিষয়টি র‌্যাব-১১ এর ভাগ্যকূল ক্যাম্পকে অবহিত করা হয়েছে। বাড়ৈখালী ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম তালুকদার জানান, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।