জেলেদের জুটেছে জেল-জরিমানা, মেলেনি বরাদ্দের চাল

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ ধরায় পদ্মা ও মেঘনার মুন্সীগঞ্জ অংশে অভিযান চালিয়ে ১২ দিনে ২৫৩৯ কেজি মা ইলিশ, ৬৯.৭২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং ৯৭ জন জেলেকে জেল জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে ২১ জন জেলে হাজতে রয়েছে। ইলিশ প্রজনন মৌসুমে আইন অমান্য করায় জেলে, ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করা হয়।

লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর জেলে শাওন হোসেন জানান, আমরা সরকারি আইন মেনে নৌকা, জাল ঘরে রেখে দিয়েছি এবং নদীতে ইলিশ মাছ শিকারে বন্ধ রেখেছি। কিন্তু অন্যান্য জেলা গুলোতে বরাদ্দের চাল পেলেও আমাদের জেলাতে এবারও বরাদ্দ নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে আছি, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা আইন মেনে চলছি কিন্তু আমাদের বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মুন্সীগঞ্জের জেলেদের জুটেছে জেল-জরিমানা, মেলেনি বরাদ্দের চাল।

মেঘনা নদীর জেলে সাত্তার মিয়া জানান, আমাদের সাথে থাকা অনেক জেলে আছে। তারা বাধ্য হয়ে নদীতে নেমে মাছ শিকার করেছেন। বরাদ্দ নেই, পরিবার চালাতে বাধ্য হয়ে ইলিশ শিকার করেছে। আমরা জেলেরা বরাদ্দ চাই।

মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ অলিয়ুর রহমান জানান, প্রজনন মৌসুমে ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু আইন অমান্য করে অনেকে জেলে ও ব্যবসায়ীরা মাছ শিকার এবং বিক্রি করে আসছিল। ১২ দিন মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশের সাথে সমন্ময় করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ২৫৩৯ কেজি মা ইলিশ, ৬৯.৭২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।

এছাড়া ৯৭ জন জেলেকে জেল জরিমানা করা হয় এবং বর্তমানে ২১ জন জেলে হাজতে আছে। জরিমানাকৃত ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা সরকারের রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হয়েছে। জেলাতে মোবাইল কোর্ট ৩৮টি, অভিযান চালানো হয়েছে ১০৩টি। এছাড়া ইলিশ মাছ ধরা ২৯৭২ জেলেকে ৪০ কেজি চাল বরাদ্দের জন্য পূর্বেই মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে বরাদ্দের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিডি২৪লাইভ