এবারও চাল বরাদ্দ পেলেন না মুন্সীগঞ্জের জেলেরা

গত বছরের মতো চলতি বছরও সরকারি চাল বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হলেন মুন্সীগঞ্জের ৬ উপজেলার দুই হাজার ৯৭২ জেলে। ইলিশ মাছ শিকার নিষিদ্ধের সময় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে গত বৃহস্পতিবার ২৫ জেলার ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬২ জন জেলেকে ৭ হাজার ৬৮৯ টন চাল বরাদ্দ দিয়ে সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও সেই তালিকায় পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামিতবিধৌত মুন্সীগঞ্জ জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

অন্যদিকে গত বছরের মতো এ বছরও সরকারি বরাদ্দের চাল না মিললেও মুন্সীগঞ্জের জেলেদের ভাগ্যে জুটেছে জেল ও জরিমানা। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মৎস্য অফিসের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ২১ জন জেলে এখন জেলহাজত খাটছেন। ১ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩ দিনে ৯৭ জন জেলেকে জেল-জরিমানা করে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা সরকারের রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জেলায় ৮ হাজারের বেশি জেলে থাকলেও ২ হাজার ৯৭২ জন জেলে ইলিশ মাছ শিকারের তালিকায় রয়েছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞার পর থেকে এসব জেলে নৌকা ও জাল রেখে মাছ ধরা বন্ধ রাখলেও সরকারি বরাদ্দের চাল না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। পাশের জেলা মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর জেলার জেলেরা বরাদ্দ পেলেও মুন্সীগঞ্জ জেলা বরাদ্দ না পাওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে প্রায় ৩ হাজার জেলে পরিবারে।

লৌহজং উপজেলার জেলে আওলাদ হোসেন বলেন, সরকারি আইন মেনে নৌকা ও জাল ঘরে রেখে নদীতে ইলিশ মাছ শিকার বন্ধ রেখেছি। কিন্তু ভাগ্যে জুটল না সরকারি বরাদ্দের চাল। গত বছরও সরকারি চাল পাইনি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. অলিয়ুর রহমান জানান, জেলার ৬টি উপজেলার ২ হাজার ৯৭২ জন জেলের সাহায্যে সরকারি চাল বরাদ্দের জন্য প্রজনন মৌসুম শুরুর আগেই মৎস্য অধিদপ্তরে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে গত বছর বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল। সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় কোন হিসেবে মুন্সীগঞ্জ জেলাকে অন্তর্ভুক্ত না করে দেশের ২৫ জেলার জেলেদের চাল বরাদ্দ দিল তা জানতে আগামী রোববার যোগাযোগ করা হবে।

উল্লেখ্য, প্রজনন মৌসুমে ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই সময় জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সমকাল