দোয়া নিতে গিয়ে খেলেন ছাত্রলীগের পিটুনি!

মঈনউদ্দিন সুমন: মুন্সীগঞ্জে সরকারি হরগঙ্গা কলেজে লেখাপড়া করেছেন শাহজাহান (২০), টিপু সুলতান (২০) ও মো. ইমরান (২০)। উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হরগঙ্গা কলেজেই রাসায়ন বিভাগে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা।

এরপর কলেজের শিক্ষকদের কাছে দোয়া নিতে এসেছিলেন এই তিন শিক্ষার্থী। আর এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পিটুনির শিকার হয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার দুপুরে সরকারি হরগঙ্গা কলেজে এই ঘটনা ঘটে।

তিন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য ওই তিন শিক্ষার্থী কলেজের লাইব্রেরির সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। সেখানে তাঁরা নিজেদের বিভিন্ন বিভাগে চান্স পাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় পাঁচ-ছয়জনের সঙ্গে এই চান্স পাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর ওই পাঁচ-ছয়জন নিজেদের ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাব্বি হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদের কাছে তিন শিক্ষার্থীকে নিয়ে যায়। সেখানে একপর্যায়ে তাঁদের মারধর করেন এবং ব্লেড দিয়ে জখম করা হয়। পরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন তাঁরা।

সরকারি হরগঙ্গা কলেজের রসায়ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাওয়া আহত শিক্ষার্থী শাহজাহান বলেন, তাঁর দুই বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চান্স পায়। তাঁরা সবাই এই কলেজেই লেখাপড়া করেছেন। তাই চান্স পাওয়ার বিষয় জানাতে ও দোয়া নিতে দুপুরে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় চান্স পাওয়ার বিষয়টি শুনে পাঁচ-ছয়জন যুবক ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে জোর করে তাঁদের ধরে নিয়ে যান। এরপর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাব্বি হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদ তাঁদের মারধর করেন। তাঁকে ও বন্ধু টিপু সুলতানকে ব্লেড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় বলেও জানান শাহজাহান।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি রাব্বি হোসেন। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি মিথ্যা। তাঁর দাবি, বহিরাগতদের আগমনে কলেজের ছাত্র অর্পণ আহত হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে বহিরাগত চারজন ছেলের ওপর হামলা চালায়।

কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদও রাব্বি হোসেনের কথার পুনরাবৃত্তি করেন।

এ বিষয়ে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ ড. মীর মাহফুজুল হক জানান, অফিস রুমে শিক্ষকদের মিটিং চলছিল। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার খবর পান তাঁরা। পরে মিটিং ছেড়ে শিক্ষকরা পরিস্থিতি শান্ত করতে যান। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা নেই বলেও জানান অধ্যক্ষ।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া দুই শিক্ষার্থী শিক্ষকদের কাছে দোয়া নিতে লাইব্রেরির রুমের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় ধাক্কা লাগার একটি বিষয় নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছে।

এই ঘটনায় দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী অর্পণকে (১৮) আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এনটিভি