বাল্ক হেডের ধাক্কায় ভেঙ্গে পরে আছে পোড়াগঙ্গা খালের ওপরে নির্মিত সেতুটি

সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তিনটি উপজেলার মানুষদের
জসীম উদ্দীন দেওয়ান : নিষেধ অমান্য করে পোড়াগঙ্গা খালে বাল্কহেড চলাচল করে, ভেঙ্গে ফেলেছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের আদাবাড়ি গ্রামের ৫৫ মিটার দৈর্ঘের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু। যে সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করে তিনটি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষদের চাহিদা মিটানো হতো, শিক্ষা, হাটবাজার থেকে শুরু প্রতিদিনের নানা প্রয়োজনীয় কাজের। স্থানীয় চেয়ারম্যান ব্যাক্তিগত উদ্দ্যোগে সেখানে বাঁশের সাঁকো ব্যবস্থার কথা জানালেও বেলী ব্রীজ স্থাপনের চেষ্টার কথা জানালেন জেলা প্রশাসক।

বালুবাহি জাহাজ এবারই প্রথম নয়, এর আগেও ভেঙ্গে দিয়েছিলো পোড়াগঙ্গা খালের উপর ১০ বছর আগে নির্মিত প্রায় দুইশ ফুট দৈর্ঘের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটিকে। সে সময় ভাঙ্গার পরিমান কম হওয়ায় সংস্কার করে চালু করা হয় সেতুটি। এর পর থেকে সরু এই খাল দিয়ে বালুবাহি জাহাজ চলাচল নিষেধ করে উপজেলা প্রশাসন। সেই নিষেধ অমান্য করে প্রায়ই চলে বালুবাহি জাহাজ। আর গেল বৃহস্পতিবার বিকালে বাহাদুর দুই নামের এমনই একটি জাহাজ সেতুর মাঝখানের একটি পিলারে স্বজোড়ে ধাক্কা দিলে, পিলার ভেঙ্গে মাঝের স্প্যানটি পরে যায় বাহাদুরের ওপর জানালেন মধ্যপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম শেখ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এই সেতুর ওপর চলাচলকারী লক্ষাধিক মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগে পরেছে ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি মহাবিদ্যালয় ও ছয়টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং নারী ও বৃদ্ধরা। যাদের গন্তব্যে পৌঁছতে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পাড় হয়ে পায়ে হাঁটতে হয় মাইলের পর মাইল পথ। আবার কেউ কেউ সময় বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে চলে ভাঙ্গা সেতুটির ওপর দিয়েই।
পোড়াগঙ্গা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন দশ থেকে ১৫ হাজার লোক পারাপার হয় বলে এর গুরুত্ব অনেক। এই গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে, করনীয় বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানান, জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা।

সেতু ভেঙ্গে বেশ কয়েকদিন হয় বাহাদুর দুই নামের জাহাজটি চাপা পরে থাকলেও এখনো সেটা উদ্ধারের কোন চেষ্টা করা হয়নি। তবে সেতু ভাঙ্গার দায়ে জাহাজের মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।