বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাসহ শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী আটক

রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন এলাকা থেকে সোয়া কোটি টাকারও বেশী মূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রাসহ মামুন (৪১) নামে এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বুধবার দিবাগত গভীর রাতে মালয়েশিয়াগামী এই যাত্রীকে আটক করে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত যাত্রী মামুন মিয়া (পাসপোর্ট নং বিপি-০০২৭৬৫৭) বিদেশে পাচারের লক্ষ্যে তার ব্যাগে রাখা অ্যালবামের ভিতরে অভিনব কায়দায় ১ কোটি ২৮ লাখ ৪২ হাজার ২৫৪ টাকা মূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা লুকিয়ে রেখেছিল।

মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার গোকুলনগর,চরবকত এরাকার মামুন মিয়া মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশে বোর্ডিং কার্ডসহ ইমিগ্রেশন পার হয়ে ঢাকা-কুয়ালালামপুরগামী বিমানে (এমএইচ-১৯৭) চড়ার জন্য হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১৬ নং বোর্ডিং ব্রিজে এয়ারলাইন্সের চেকইন কাউন্টারে অবস্থান করছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বুধবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে মালয়েশিয়াগামী যাত্রী মামুন মিয়াকে কঠোর নজরদারিতে রাখে। পরে রাত সোয়া ২টার দিকে তারা মামুনকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং কাস্টমস হলে নিয়ে এসে তল্লাশী শুরু করেন।

তারা মামুন মিয়ার শরীর, ব্যাগ ও মালামাল তল্লাশি করে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪২ হাজার ২শ’ ৫৪ টাকা মূল্যমানের সৌদি রিয়াল, ইউএই দিরহাম, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, থাই বাথ, ইন্ডিয়ান রুপি ও শ্রীলঙ্কান রুপি উদ্ধার করেন। এসব বৈদেশিক মুদ্রা তার ব্যাগের বিভিন্ন জায়গায় এবং ছবি বিহীন ফটো অ্যালবামে লুকায়িত ছিল। ব্যাগের নিচে বিশেষভাবে প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া এসব মুদ্রা তিনি চোরাচালানের মাধ্যমে পাচার করার চেষ্টা করছিলেন।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান আজ বাসসকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পাসপোর্ট চেক করে দেখা যায় মামুন এ বছর ২৪ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। তার ধারণা আটককৃত এই যাত্রী একজন বাহকমাত্র। তিনি চোরাচালানের পণ্য কিনতে এই মুদ্রা অবৈধভাবে বহন করছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যাত্রী মো. মামুন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন উল্লেখ করে ড. মইনুল খান বলেন,আটক করা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হেফাজতে আছে। তিনি বলেন, ঘোষণা ছাড়া এবং লুকানোর কারণে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ও শুল্ক আইন ভঙ্গ হয়েছে। মোঃ মামুন মিয়াকে শুল্ক আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

বাসস