স্বস্তায় ইলিশ ভাজি খাইয়া যান!

বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিমুলিয়া ঘাটে শত শত যানবাহন আটকে। ফলে ঘাটে মানুষের আনাগোনাও বেশি। অনেকে কয়েক দিনের ছুটি পেয়ে ঢাকা ছাড়ছেন। ফলে স্পিডবোড ও ফেরিঘাটেও মানুষের ঢল। এসব মানুষ শিমুলিয়া ঘাটে ইলিশে মজেছেন!

পদ্মার পাড়ে শিমুলিয়া ঘাটে গড়ে উঠেছে অনেক খাবার হোটেল। এসব হোটেলের প্রধান আয়োজন যেন ইলিশ ঘিরেই। চারিদিকে ইলিশের গন্ধ, মৎস্যজীবী, আড়তদার, হোটেলের ক্রেতা-বিক্রেতার হই-হট্টগোল!

শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) শিমুলিয়া ঘাটে হোটেলের কর্মচারীরা খদ্দেরকে উদ্দেশ্য করে হাঁকডাক করছেন, স্বস্তায় পেট পুরে ইলিশ খাইয়ে যান! পদ্মার তাজা ইলিশ। কয়দিন পরেই মাছ ধরা বন্ধ, তখন স্বস্তায় ইলিশ খাওয়া লাগবে না। ‘স্বস্তায় ইলিশ ভাজি খাইয়া যান! হাতে সময় কম’।

চলছে ইলিশের মৌসুম, পদ্মাপাড়ের প্রতিটি হোটেলেই উপচেপড়া ভিড়। পুরো পরিবার নিয়ে অনেকেই ইলিশে মজেছেন এসব হোটেলে। ক্রেতারা তাজা ইলিশ পছন্দ করছেন। সামনেই কাটা হচ্ছে ইলিশ। এসব ইলিশ ক্ষণিকের মধ্যেই ভেজে পরিবেশন করা হচ্ছে।

পদ্মার পাড়ে সবগুলো হোটেলের এখন মূল আকর্ষণ ইলিশ। অন্য খাবার যেন উপেক্ষিত। হোটেলগুলো ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। শিমুলিয়া ঘাটে সপরিবারে ইলিশ ভাজি খাচ্ছেন একটি পরিবারের সদস্যরা। তারা ঢাকার উদ্দেশে মাদারীপুর থেকে এসেছেন। মাঝিরঘাট থেকে লঞ্চে শিমুলিয়া ঘাটে নেমেছেন। ঘাটে নেমেই সরাসরি এসেছেন নিরালা হোটেলে।

ব্যবসায়ী হাজি সাইদুল ইসলাম ও স্ত্রী সনেট পারভিনসহ তাদের দুই সন্তান শিমুলিয়া ঘাটে ইলিশ ভাজি খাচ্ছেন। ঘাটে ইলিশ খাওয়া প্রসঙ্গে সাইদুল বলেন, প্রায় বাড়িতে বিভিন্ন সময় ইলিশ মাছ ভাজা হয়। কিন্তু ঘাটে (শিমুলিয়া) ইলিশ ভাজার স্বাদই অন্যরকম। এখানে ইলিশ ভাজা না খেয়ে আসলে মনে হয় বাড়িতে কি যেন না খেয়ে ঢাকায় আসলাম।

হোটেলগুলোতে ইলিশের পিছ, ডিম, মাথা ও লেজ আলাদা ভাজি পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি ইলিশের টুকরা ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় বড় ইলিশের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে।
হোটেলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৌসুম ছাড়া প্রতি টুকরা ইলিশ ১৩০ থেকে ১৫০ এবং ডিম ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এখন দাম কম।

১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ মাছ সংরক্ষণের জন্য এ ২২ দিন মাছ ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। সরকারের এ আদেশ অমান্য করে ইলিশ আহরণ ও বিক্রি করলে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।

ফলে সোমবার থেকে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ হচ্ছে। এর ফলে বাড়তে শুরু করবে ইলিশের দাম। হাঁকডাকে এ বার্তাই ক্রেতাদের দিচ্ছেন হোটেল কর্মকর্তারা।

নিরালা হোটেলের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বাংলানিউজকে বলেন, হাতে একদমই সময় নাই। ১ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। এখন আমরা যে দামে ইলিশ খদ্দেরকে খাওয়াতে পারছি এরপর আর পারবো না। তাই ইলিশ খাওয়ার এখনই শেষ সময়।

মফিজুল সাদিক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *