গজারিয়ায় কিশোরের মৃত্যু: ইউপি চেয়ারম্যানের শাস্তির দাবি

টানা চারদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত দুইটার দিকে মৃত্যুর কাছে হার মানল প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মাহবুব আলম (২৮)। এ ঘটনায় দোষী ইউপি চেয়ারম্যান সাহিদ লিটনসহ বাকীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে নিহতের স্বজনরা।

নিহত মাহবুব আলম মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের পৈক্ষারপাড় গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। গত মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান সাহিদ লিটন সমর্থদের হামলায় গুরতর আহত হয় সে।

এদিকে শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে নিজ বাড়ী পৈক্ষারপাড় গ্রামে আনা হলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। পরে আসর নামাজের পর জানাজা শেষে নিহত মাহবুবকে ভবেরচর কেন্দ্রীয় গোরস্তান দাফন করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদিকা ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। এ ঘটনায় দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে গোটা এলাকায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

নিহতের স্বজন ও থানা সূত্রে জানা যায়, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কেন্দ্র করে ইউনিয়নটির বর্তমান চেয়ারম্যান সাহিদ লিটনের সাথে ইউনিয়নটির ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মমিনুর রহমানের বিরোধ চলছিল। উভয় পক্ষের সমর্থদের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। থানায় মামলাও করা হয়।

এ ঘটনার রেশ ধরেই গত ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে চেয়ারম্যান সাহিদ লিটনের সমর্থক বিল্লাল, রুহুল আমিন, আজিজুল, আল আমিনসহ ১২/১৩ জন হামলা চালায় মমিনুর রহমান সমর্থক মাহবুব আলমের উপর। এসময় তারা রামদা,চাপাতি দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে মাহবুবকে কুপিয়ে গুরতর জখম করে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গজারিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাঠায় তবে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পাঠিয়ে দেয় কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাবী রোজিনা বেগম বাদী হয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান সাহিদ লিটনকে প্রধান আসামী করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে গজারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত নূরে আলম নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

গজারিয়া থানার অফিসার্স ইনর্চাজ হেদায়াতুল ইসলাম ভূঞা জানান, বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে। নূরে আলম নামে একজন আসামীকে আটক করে বৃহ¯পতিবার জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামীদের আটকে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে মামলার প্রধান আসামী ইউপি চেয়ারম্যান সাহিদ লিটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি ঢাকা অবস্থান করছিলেন। আর চেয়ারম্যান হিসেবে অনেক লোক তার কাছে আসতে পারে তাই বলে সবাই তার সমর্থক নয়। রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্য এ মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিডি২৪লাইভ